ফাইল ছাড়তে ১০ লাখ ঘুষ! সিবিআইয়ের জালে মোদি সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিক!

চুক্তি নবীকরণের আটকে থাকা ফাইল দ্রুত ছেড়ে দেওয়ার নামে মোটা অঙ্কের ঘুষ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে গ্রেফতার করেছে সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন বা সিবিআই। ধৃত ওই আধিকারিক মন্ত্রকের ইন্টারনাল ফাইনান্সিয়াল অ্যাডভাইজার (আইএফএ) তথা ডেপুটি কন্ট্রোলার অফ অ্যাকাউন্টস পদে কর্মরত ছিলেন। সরকারি সূত্রের খবর, নিজের স্ত্রীর মাধ্যমে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ ১০ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেহাতে ধরা পড়েছেন তিনি।

সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ওই আধিকারিক ২০২০ ব্যাচের ইন্ডিয়ান সিভিল অ্যাকাউন্টস সার্ভিস (আইসিএএস)-এর একজন অফিসার। একটি বেসরকারি সংস্থার চুক্তি নবীকরণের ফাইল দীর্ঘদিন ধরে তাঁর দপ্তরে আটকে ছিল। অভিযোগ, ফাইলটি দ্রুত ছাড়িয়ে কাজ এগিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে তিনি প্রথমে ১৫ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। পরবর্তীতে দুই পক্ষের দরকষাকষিতে সেই অঙ্ক কমে ১০ লক্ষ টাকায় দাঁড়ায়। শর্ত ছিল, টাকা মেটালেই আটকে থাকা ফাইল দ্রুত মঞ্জুর করা হবে।

পুরো বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সরাসরি সিবিআইয়ের দ্বারস্থ হন এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়ে নড়েচড়ে বসে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। একটি বিশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী ফাঁদ পাতা হয়। গত মঙ্গলবার পূর্বপরিকল্পিত ছক মোতাবেক ওই ব্যবসায়ী যখন টাকা দিতে যান, তখন সন্দীপ নিজে সরাসরি টাকা না নিয়ে তাঁর স্ত্রীর হাত দিয়ে তা গ্রহণ করেন। কিন্তু আড়ালে ওঁৎ পেতে থাকা সিবিআই গোয়েন্দাদের চোখ এড়াতে পারেননি তাঁরা। টাকা হাতবদল হওয়া মাত্রই হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত আধিকারিক ও তাঁর স্ত্রীকে।

সিবিআইয়ের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “অভিযুক্ত আইসিএএস আধিকারিক চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া রিনিউ করানোর জন্য বেআইনিভাবে ঘুষের দাবি করেছিলেন। আমরা সঠিক সময়ে ফাঁদ পেতে ১০ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় তাঁকে পাকড়াও করেছি।” এই ঘটনায় সরকারি মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *