৩৭০ ধারা বাতিলের পর প্রথম মার্কিন রাষ্ট্রদূত! কাশ্মীরে পা রাখতেই শুরু হলো জল্পনা

ভারতের নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর দুই দিনের সফরে আজ (বুধবার, ১৯ আগস্ট) জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখে পৌঁছেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম কাশ্মীর সফর। এই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কৌশলগত সফরে তিনি মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এবং লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহার সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করবেন।

জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখে প্রথম উচ্চ-পর্যায়ের সফর
সূত্র জানিয়েছে, সার্জিও গোর আজ রাতে শ্রীনগরে অবস্থান করবেন এবং বৃহস্পতিবার সকালে লাদাখের উদ্দেশে রওনা দেবেন। ২০২০ সালের জুনে গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষের পর এটিই হবে লাদাখে কোনো মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর। একই সঙ্গে, ২০১৯ সালে ৩৭০ ধারা বাতিল এবং জম্মু ও কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণার পরেও এটি কোনো মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রথম সরাসরি সফর। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পর থেকেই তাঁর এই সফর নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছিল।

রাষ্ট্রদূতের এই সফর উপলক্ষে শ্রীনগরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মার্কিন দূতাবাসের একটি নিরাপত্তা দল আগেই সেখানে পৌঁছে সব প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেছে। জানা গেছে, রাষ্ট্রদূত গোর শ্রীনগরের তাজ হোটেলে অবস্থান করছেন।

রাজনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব
কূটনৈতিক মহলের মতে, ভারত-মার্কিন কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে সার্জিও গোর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত ডোভালের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন, যেখানে সন্ত্রাসবাদ ও মাদক পাচারের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

নতুন রাজনৈতিক সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর সঙ্গে এটিই কোনো মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রথম উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক। তবে মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ আগেই স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, কাশ্মীরের অভ্যন্তরীণ সমস্যার সমাধান কোনো বিদেশি মধ্যস্থতায় নয়, বরং ভারতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গেই আলোচনার মাধ্যমে করতে হবে।

লাদাখ সফরকে ঘিরেও বিশেষ কূটনৈতিক বার্তা রয়েছে। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘাতের পর মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই লাদাখ সফর চীনের সামরিক কার্যকলাপের ওপর আমেরিকার গভীর নজরদারির ইঙ্গিত দেয়। সবমিলিয়ে, ওয়াশিংটনের এই কড়া কূটনৈতিক পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *