এক ধাক্কায় ১৭% লাফে আকাশ ছুঁল শেয়ার! বড় বিনিয়োগকারীর এন্ট্রি পড়তেই হুড়মুড়িয়ে ছুটছে এই ফিনটেক স্টক

শেয়ার বাজারে যখন বড় কোনো বিনিয়োগকারী কোনো কোম্পানির প্রতি আস্থা রাখেন, তখন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের নজর সঙ্গে সঙ্গে সেদিকে আকৃষ্ট হয়। সম্প্রতি এমনই একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে, যার জেরে এআই-ভিত্তিক SaaS ফিনটেক কোম্পানি Zaggle Prepaid Ocean Services-এর শেয়ারের দাম এক ঝটকায় আকাশছোঁয়া হয়ে গেছে। প্রখ্যাত বিনিয়োগকারী বিজয় কেদিয়ার প্রতিষ্ঠান কেদিয়া সিকিউরিটিজ এই কোম্পানিতে একটি উল্লেখযোগ্য অংশীদারিত্ব কিনে নেওয়ার পরই শেয়ার বাজারে বড় ধরনের তোলপাড় শুরু হয়েছে। এক ধাক্কায় হুড়মুড়িয়ে বাড়ল শেয়ারের দাম সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে বাজার খোলার সাথেই জাগল প্রিপেইডের শেয়ারে কেনার ধুম পড়ে যায়। আগের দিন শেয়ারটি যেখানে ১৬৫.৮৮ টাকায় বন্ধ হয়েছিল, এদিন তা বেড়ে ১৮৭.৪০ টাকায় খোলে। এরপর হু-হু করে এর দাম ১৭ শতাংশের বেশি অর্থাৎ এক লাফে দিনের সর্বোচ্চ ১৯৪.৭০ টাকায় গিয়ে পৌঁছায়। ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ বা এনএসই-র (NSE) বাল্ক ডিলের তথ্য অনুযায়ী, কেদিয়া সিকিউরিটিজ মঙ্গলবার প্রায় ২০ লক্ষ শেয়ার প্রতি শেয়ার ১৬৪.৭২ টাকা গড় মূল্যে কিনে নিয়েছে। এই বিশাল লেনেদেনের মোট আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৩৩ কোটি টাকা। ৫২ সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তর থেকে বড় এন্ট্রি বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, বিজয় কেদিয়া যখন এই কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলেন, তখন এর স্টকটি ৫২-সপ্তাহের সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি অবস্থান করছিল। এর আগে গত ১৮ই আগস্ট স্টকটি ১৫৪.৩৬ টাকার ৫২-সপ্তাহের সর্বনিম্নে নেমেছিল। চলতি বছরে সামগ্রিকভাবে এই স্টকের দর প্রায় ৪৭ শতাংশ এবং আগস্ট মাসেও প্রায় ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল। তবে শুধু বিজয় কেদিয়া একা নন, এর আগে আরেক বিশিষ্ট বিনিয়োগকারী আশীষ কাচোলিয়াও এই সংস্থায় নিজের অংশীদারিত্ব তৈরি করেছেন। গত জুন ত্রৈমাসিকের শেষে কাচোলিয়ার হাতে কোম্পানির ২.১৬ শতাংশ শেয়ার ছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারী বা এফপিআই-এর (FPI) কাছেও কোম্পানির ২.৩১ শতাংশ শেয়ারের দখল রয়েছে।মুনাফায় টান পড়লেও আত্মবিশ্বাসী বিনিয়োগকারীরা গত ১৪ই আগস্ট Zaggle Prepaid তাদের চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকের (Q1FY27) আর্থিক ফলাফল প্রকাশ্যে আনে। সেই তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানির নিট মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩২.৯ শতাংশ কমে ১৭.৫৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। তা সত্ত্বেও কোম্পানির পরিচালন আয় উল্লেখযোগ্যভাবে ২৭.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪২৩.২৭ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছে।কোম্পানি জানিয়েছে, কিছু নতুন অধিগ্রহণ এবং এককালীন খরচের কারণে সাময়িকভাবে মুনাফায় সামান্য প্রভাব পড়েছে। তবে আগামী ত্রৈমাসিক থেকেই সেই সমস্ত চুক্তি থেকে বড় অংকের আয় ঘরে আসতে শুরু করবে।কোন ব্যবসায় যুক্ত এই সংস্থা?মূলত বিজনেস-টু-বিজনেস-টু-কাস্টমার বা বিটুবিটুসি (B2B2C) মডেলে ব্যবসা পরিচালনা করে এই ফিনটেক সংস্থা। বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের জন্য ট্যাক্স এবং পে-রোল সফটওয়্যারের মতো আধুনিক SaaS পণ্য সরবরাহ করে থাকে তারা। ব্যাংকিং, ফিন্যান্স, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, এফএমসিজি এবং অটোমোবাইলের মতো দেশের বড় বড় শিল্প সেক্টর এই কোম্পানির ক্লায়েন্ট তালিকায় রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বড় বিনিয়োগকারীর হাত ধরে এই স্টকটি দীর্ঘমেয়াদে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কতটা লাভ উপহার দেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *