‘আজ আমি স্ত্রীকে খুন করেছি!’ পুলিশ অফিসার স্বামীর লোমহর্ষক স্ট্যাটাসে লখনউয়ে ট্রিপল মার্ডার-আত্মহত্যার বীভৎস রহস্য

উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনউয়ের গোমতীনগরে ঘটে যাওয়া আলোড়ন ফেলে দেওয়া ত্রিপল মার্ডার ও আত্মহত্যার ঘটনাটি এক অত্যন্ত মর্মান্তিক ও ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। ব্যাংক আধিকারিক স্ত্রী দিব্যা মিশ্র এবং নিজের বোনকে খুন করার পর আত্মঘাতী হওয়া অভিযুক্ত মানস বাজপাইয়ের একটি হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাস সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। আর এই একটিমাত্র স্ট্যাটাসই পুরো ঘটনার পেছনের ভয়ংকর মানসিকতা এবং পূর্বপরিকল্পনার কথা স্পষ্টভাবে সামনে এনে দিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চরম পদক্ষেপে যাওয়ার আগে মানস সোশ্যাল মিডিয়ায় তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবিশ্বস্ততার গুরুতর অভিযোগ তোলে এবং নিজের অপরাধ স্বীকার করে একটি বার্তা পোস্ট করে। সেখানে সে লিখেছিল, “আজ আমি আমার স্ত্রীকে হত্যা করেছি কারণ সে আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এখন আমাকে আত্মহত্যা করতে হবে এবং আমার বোনকেও হত্যা করতে হবে। বোন প্রজ্ঞা ও ভরত সব জানে…” অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় এই পুরো ঘটনার ছক কষা হয়েছিল বলেই মনে করছে পুলিশ।
পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে দুটি পিস্তল নিয়ে গোমতীনগরের একটি ব্যাংকের বাইরে পৌঁছে স্ত্রীকে ডেকে পাঠান মানস। বাইরে আসামাত্রই তাঁকে গুলি করা হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর একটি অটোয় চেপে হুসাদিয়া স্কোয়ারের বাড়িতে ফিরে স্ট্যাটাসে উল্লিখিত দ্বিতীয় ধাপ অর্থাৎ নিজের বোনকে গুলি করে খুন করে সে। সবশেষে নিজেকেও শেষ করে দেয় অভিযুক্ত। রাজধানীর বুকে ঘটে যাওয়া এই লোমহর্ষক ঘটনায় গোটা এলাকায় ত্রাসের সৃষ্টি হয়েছে। লখনউ পুলিশ ও ফরেনসিক দল বর্তমানে এই হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাস, কল ডিটেইল রেকর্ড এবং সিসিটিভি ফুটেজকে সামনে রেখে ঘটনার গভীরে পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।