ভারত-জাপান মেগা ডিফেন্স চুক্তি! সামুদ্রিক নিরাপত্তা বাড়াতে যৌথভাবে যুদ্ধজাহাজ বানানোর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজেদের কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে এক ঐতিহাসিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করল ভারত ও জাপান। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং তাঁর জাপানি প্রতিপক্ষ শিনজিরো কোইজুমি এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও গভীর করা, নৌবাহিনীর কাজের সমন্বয় বাড়ানো এবং যৌথভাবে নৌ-জাহাজের নকশা ও নির্মাণের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে ঐকমত্যে পৌঁছেছে দুই দেশ।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় নৌবাহিনী এবং জাপান সামুদ্রিক আত্মরক্ষা বাহিনীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার রূপরেখা তৈরি করতে একটি বিশেষ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে সামুদ্রিক পরিবেশের ওপর নজরদারি, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান এবং মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ ত্রাণ তহবিলের কাজে দুদেশের যৌথ তৎপরতা আরও শক্তিশালী হবে। এছাড়া যৌথ সামরিক মহড়া, নৌ-পরিদর্শন এবং বিশেষজ্ঞ বিনিময়ের মাধ্যমে সমুদ্রপথকে আরও সুরক্ষিত করে তুলতে সম্মত হয়েছে উভয় পক্ষ।

বিশেষ করে মাইন প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাপানের উন্নত প্রযুক্তির সঙ্গে ভারতের উৎপাদন ক্ষমতাকে একত্রিত করে নৌ-জাহাজের যৌথ ডিজাইনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কাঠামোর আওতায় জাপানের প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভারতেই প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি, অদূর ভবিষ্যতে একটি দ্বিপাক্ষিক জাহাজ মেরামত চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে চলেছে, যার মাধ্যমে দুই দেশই একে অপরের আধুনিক ডক ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা ব্যবহার করতে পারবে।

আগামী দিনে দ্বিপাক্ষিক সামরিক মহড়া যেমন ‘ধর্ম গার্ডিয়ান’ এবং নৌ মহড়া ‘জাইমেক্স’-এর পরিধি আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমনকি চলতি বছরের শেষের দিকে অনুষ্ঠেয় ‘ভ্যালর গার্ডিয়ান ২৬’ বিমান বাহিনী মহড়ায় অংশ নিতে প্রথমবার ভারতের মাটিতে পা রাখছে জাপান বিমান আত্মরক্ষা বাহিনীর যুদ্ধবিমান। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) এবং জাপানের ATLA-র যৌথ উদ্যোগে উন্নত প্রযুক্তির আদানপ্রদান এবং চতুর্থ ভারত-জাপান ‘২+২’ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে। আঞ্চলিক স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে এবং সমুদ্র ও আকাশপথে অবাধ যাতায়াত সুনিশ্চিত করতে এই দ্বিপাক্ষিক মৈত্রী আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *