গলায় ধারালো অস্ত্র নিয়ে দৌড়, তারপর মন্দিরের গেটে রক্তাক্ত পরিণতি! হিমাচল প্রদেশের এই হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্য

হিমাচল প্রদেশের সিরমৌর জেলার পাঁওটা সাহিব এলাকায় এক ৫৪ বছর বয়সি ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গত মঙ্গলবার ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ডের জেরে বিশ্বকর্মা চক এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় এবং ক্ষুব্ধ পরিবারের সদস্যরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। তবে দ্রুত পদক্ষেপ করে সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য ভেদ করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুই অভিযুক্তকে।
কে ছিলেন মৃত ব্যক্তি?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত ব্যক্তির নাম ভব সিং (৫৪)। তিনি সিরমৌর জেলার আওয়াত গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, ভব সিং ঠাকুর প্রতিদিন সকালে নাহানে গিয়ে সবজি কিনতেন এবং সেগুলি নিজের গ্রাম ও শিলাই তহসিলের কাফোটার বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরিবারের দাবি, কারোর সঙ্গেই তাঁর কোনো শত্রুতা ছিল না। অথচ সেই সাধারণ মানুষটিকেই মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হতে হলো।
সিসিটিভি ফুটেজে রোমহর্ষক দৃশ্য
তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আশপাশের একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে, যা পরবর্তীতে প্রকাশ্যে আসে। ওই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, বিশ্বকর্মা মন্দিরের কাছে একটি পার্কিং এলাকায় ভব সিংয়ের গলার নলি ও শরীরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় প্রাণ বাঁচাতে তিনি গলা চেপে ধরে কোনোমতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি; মন্দিরের গেটের কাছে এসে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। পার্কিং এলাকা থেকে মন্দিরের গেট পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা রক্তের দাগ প্রমাণ করে মৃত্যুর আগে বাঁচার জন্য তিনি কতটা লড়াই করেছিলেন।
গ্রেপ্তার দুই অভিযুক্ত, কী কারণে এই খুন?
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২১ বছর বয়সি মহম্মদ আমির ওরফে ফগ্গু এবং ২৯ বছর বয়সি রেখা ওরফে অন্নু নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতরা দু’জনেই স্থানীয় বাসিন্দা।
সিরমৌরের এএসপি নরেন্দ্র শর্মা এবং পাঁওটার ডিএসপি মনবেন্দ্র ঠাকুর জানিয়েছেন, মৃত ভব সিংয়ের সঙ্গে ওই যুবক ও যুবতীর আগে থেকেই পরিচয় ছিল। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, মৃত ব্যক্তি ওই যুবক ও যুবতীকে কোনো এক আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেছিলেন। আর সেই ঘটনা জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়েই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। পুলিশ সেই দিকটিও গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে।
খুনের মামলা রুজু করে এই ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রযুক্তিগত প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত দ্রুত এগিয়ে চলেছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।