তৃতীয় সন্তানের জন্ম দিলেও মিলবে ৩৬৫ দিনের ছুটি! নারী ক্ষমতায়নে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত সরকারে

ক্ষমতায় আসার প্রথম একশো দিনের মধ্যেই একের পর এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে চমক দিচ্ছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। প্রশাসনিক কাজে গতি আনার পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পেও জোর দিচ্ছেন তিনি। এবার তামিলনাড়ুর মহিলা সরকারি কর্মচারীদের জন্য এক বিশেষ বড় ঘোষণা করল তাঁর সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে তৃতীয় সন্তানের জন্মের ক্ষেত্রেও মহিলা সরকারি কর্মীরা ৩৬৫ দিনের অর্থাৎ পুরো এক বছরের পূর্ণ বেতনের মাতৃত্বকালীন ছুটি পাবেন।
ছুটির নিয়মে বড় বদল
এতদিন পর্যন্ত রাজ্যে তৃতীয় সন্তানের জন্মের ক্ষেত্রে মহিলা সরকারি কর্মীদের জন্য মাত্র ১২ সপ্তাহ বা ৮৪ দিনের মাতৃত্বকালীন ছুটির নিয়ম ছিল। প্রথম ও দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে ৩৬৫ দিনের ছুটি মিললেও তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে তা অনেকটাই কম ছিল। এবার নতুন সিদ্ধান্তের ফলে তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রেও ছুটির মেয়াদ প্রথম ও দ্বিতীয় সন্তানের সমান করা হলো।
মঙ্গলবার তামিলনাড়ুর বিধানসভায় মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী ডি সরতকুমার এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, তামিলনাড়ু সরকার সামাজিক কল্যাণ এবং নারী ক্ষমতায়নকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেয়। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই সরকার এই জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে বিস্তারিত সরকারি নির্দেশিকা জারি করা হবে বলেও জানিয়েছেন সরকারের এক শীর্ষ আধিকারিক।
বিধায়কের সাহসিকতা ও বিতর্কের জবাব
এই সিদ্ধান্তের দিনই বিধানসভায় এক ভিন্নধর্মী দৃশ্য দেখা গেল। তামিলগা ভেত্রি কাজাগমের প্রথমবারের বিধায়ক আর পল্লবী তাঁর সদ্যোজাত সন্তানকে নিয়ে বিধানসভায় হাজির হয়েছিলেন। অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগে তিনি শিশুটিকে একজন পরিচর্যাকারীর দায়িত্বে রেখে আসেন।
যদিও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর সন্তানকে বিধানসভায় নিয়ে আসা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, তার যোগ্য জবাব দিয়েছেন পল্লবী। তিনি সাফ জানান, সদ্যোজাত সন্তানকে বাড়িতে রেখে আসা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। পরিস্থিতির বিচার না করে মন্তব্য না করার জন্য তিনি সকলকে অনুরোধ করেন। বিধায়কের এই উপস্থিতি এবং সরকারের নতুন ঘোষণা—উভয়ই এদিন তামিলনাড়ুর বিধানসভায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
উল্লেখ্য, দুই দিন আগেই রাজ্যের কৃষকদের জন্য বড় ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। কোঅপারেটিভ ব্যাংক থেকে নেওয়া ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ ১০০ শতাংশ মকুব করার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। একের পর এক জনদরদি সিদ্ধান্তে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় এখন সাধারণ মানুষের মধ্যমণি হয়ে উঠেছেন।