মাঝরাতে মির্জা গালিব স্ট্রিটের এসি থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! দমবন্ধ হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু কমপক্ষে ৯ জনের

কলকাতার বুকে ফের এক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কেঁপে উঠল তিলোত্তমা। মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে মাঝরাতে ভয়াবহ আগুন লাগার জেরে দমবন্ধ হয়ে কমপক্ষে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ হয়েছেন আরও অনেকে। প্রাথমিক তদন্তে এসি থেকে আগুন লাগার কথা অনুমান করা হলেও, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা শহরের বুকে ফের একাধিক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে শহরের এই ঘিঞ্জি এলাকায়, অত্যন্ত সরু রাস্তার মধ্যে কীভাবে একের পর এক অপরিকল্পিত হোটেল গড়ে উঠল এবং তারা কীভাবে ট্রেড লাইসেন্স পেল? খোদ দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী এই বিষয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। অতীতে শহরে একাধিক বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর বিভিন্ন পদক্ষেপ করার কথা বলা হলেও, বাস্তবে তার কতটা রূপায়ন হয়েছে, তা নিয়েও শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্যেও উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

উল্লেখ্য, এর আগে জোড়াসাঁকোর একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর শহরের সমস্ত হোটেলে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দমকল দফতরে পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় ‘থার্ড পার্টি’ বা বেসরকারি সংস্থার ওপর ভরসা করতে হয়। তবে দমকল সূত্রে খবর, সেই অডিট বা পরীক্ষা শেষ করা সম্ভব হয়নি। কলকাতা পুরসভায় এই বিষয়ে একাধিক বৈঠক হলেও তার কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

কলকাতা পুরসভা ও দমকল দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের বড় অভিজাত হোটেল সহ মোট ৩,৭৮৮টি হোটেলকে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যেগুলির ফায়ার সেফটি বা অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা কড়াকড়িভাবে খতিয়ে দেখার কথা ছিল। ছাদের ওপরে রেস্তোরাঁ এবং ফায়ার অডিট সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি তৈরি হয়েছিল। কলকাতা পুরসভায় দফায় দফায় বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও মাত্র তিন থেকে চারবার বৈঠকের পরেই তা থমকে যায়। সরকারের কাছে নির্দিষ্ট সেই রিপোর্টও জমা পড়েনি।

প্রশাসনের কর্তাদের একাংশের মতে, লোকবলের তীব্র অভাব, নজরদারির ত্রুটি এবং সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত না নেওয়ার ফলেই মির্জা গালিব স্ট্রিটের মতো এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।

এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানান, দমকল বিভাগে লোকবলের অভাবেই থার্ড পার্টি অডিট টিম তৈরি করার কথা বলা হয়েছিল। তবে ভবনগুলিতে নজরদারি চালানোর দায়িত্ব পুরসভার নয়, বরং তা দমকল বিভাগের দেখার কথা। এছাড়া হোটেলগুলি কীভাবে ট্রেড লাইসেন্স পেয়েছিল, তা তাঁর একার পক্ষে বলা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

অন্যদিকে, বর্তমান দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী পূর্বতন সরকারের দিকে আঙুল তুলে প্রশ্ন করেছেন যে, কীভাবে কলকাতা পৌরসভা ওই হোটেলগুলিকে ট্রেড লাইসেন্স দিল? আগের সরকারের সেই ভুলের খেসারত বর্তমান প্রশাসনকে বহন করতে হচ্ছে বলে দাবি করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে এবং দোষী প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *