দেশের হয়ে সোনা জিতেও জুটল না অভিনন্দন! বাংলার সাঁতারুর সাফল্যে শোকের সুর পরিবারে।

জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় বাংলার জন্য সোনা জয় করে এনেছেন। কিন্তু সেই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ফুলের স্তবক বা আর্থিক পুরস্কার তো দূর, সংস্থার পক্ষ থেকে একটা অভিনন্দনসূচক ফোনটুকুও পাননি বারো বছরের সাঁতারু অংশুমান নাগ। রাজ্য সাঁতারের বেহাল দশা আর প্রশাসনিক অবহেলার কারণে আজ শুধু অংশুমান নন, বাংলার বহু প্রতিশ্রুতিমান সাঁতারুই কার্যত দিশেহারা।
সফলতার নেপথ্যে লড়াই ও বঞ্চনার গল্প হাওড়ার বেলুড়ের বাসিন্দা অংশুমান সম্প্রতি সাব-জুনিয়র অ্যাকোয়াটিক চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটার ব্যাক-স্ট্রোকে সোনা জয়ের পাশাপাশি ৪x৫০ মিটার রিলেতেও বাংলাকে সোনা এনে দিয়েছে। এছাড়াও ৪x৫০ মিটার ফ্রি-স্টাইল বিভাগে তার ঝুলিতে এসেছে রুপো। কিন্তু এই সাফল্যের নেপথ্যে যে ভয়াবহ লড়াই রয়েছে, তা শুনলে শিউরে উঠতে হয়। অংশুমানের বাবা ও প্রশিক্ষক রাজু নাগ জানিয়েছেন, সারা বছর সাঁতার প্র্যাকটিস করার মতো সুযোগই নেই এখানে। অনেক সময় কালো জলে প্র্যাকটিস করতে হয়। বাবার আক্ষেপ, “অন্য রাজ্যের পরিকাঠামোর সঙ্গে আমাদের রাজ্যের তুলনা করা অর্থহীন। সোনা জিতলেও নূন্যতম পরিচিতি বা আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায় না। এই পরিকাঠামোয় প্র্যাকটিস করে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কার্যত অসম্ভব।”
অ্যাড-হক কমিটির অধীনে সাঁতারের ‘কালো দিন’ বর্তমানে রাজ্য সাঁতার সংস্থা অ্যাড-হক কমিটির অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। শৈবাল শাউয়ের সভাপতিত্বে এই কমিটির কাজ ছিল সাঁতারুদের স্বার্থ রক্ষা এবং স্বচ্ছ পদ্ধতিতে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। কিন্তু অভিযোগ, নির্বাচনের সময়কার জটিলতা আর সাঁতার সংস্থার অন্দরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে প্রতিযোগীরা চূড়ান্ত অবহেলার শিকার। রাজ্য সাঁতার সংস্থার কর্তাদের এক পক্ষ যখন আর্থিক সমস্যার দোহাই দিচ্ছেন, অন্য পক্ষ পুরনো কর্তাদের দিকে আঙুল তুলে বলছেন, “চেয়ার আঁকড়ে বসে থেকে তাঁরা সাঁতারটাকে শেষ করে দিয়েছেন।”
বদলের আশায় পথ চেয়ে বাবা-ছেলে রাজ্যজুড়ে এই পরিকাঠামোহীন ব্যবস্থায় লড়াই করতে করতে বহু সাঁতারু ইতিমধ্যেই হতাশ হয়ে অন্য রাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন। তবে অংশুমানের বাবা রাজু নাগ এখনই হাল ছাড়তে নারাজ। তিনি নতুন সরকারের উপর আস্থা রেখে বলছেন, “নিজের রাজ্যে সব সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে অন্য রাজ্যে কেন যাব?” তবে রাজ্য সরকার ও ক্রীড়ামন্ত্রীর আশ্বাসের দিকে তাকিয়ে থাকা অংশুমান ও তাঁর পরিবারের কাছে সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে অনিশ্চয়তা। সোনাজয়ী অংশুমানের চোখে স্বপ্ন একটাই—দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা। কিন্তু বাংলার সাঁতারের বেহাল পরিকাঠামো কি সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে দেবে? এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে ক্রীড়ামহলে।