বর্ষায় জলজমা রাস্তা পার হওয়ার সময় এসি চালাচ্ছেন? অজান্তেই নিজের গাড়ির বারোটা বাজাচ্ছেন না তো!

বর্ষার দিনে শহরের রাস্তায় জল জমা এক চেনা ও নিত্যদিনের ঘটনা। জলমগ্ন রাস্তা সাবধানে পেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছনোই চালকদের কাছে তখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে বহু চালকই না বুঝে গাড়ির এয়ার কন্ডিশনার বা এসি অন করে রাখেন, যা অজান্তেই গাড়ির ইঞ্জিনের মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলজমা রাস্তায় এসি চালিয়ে গাড়ি চালানো মানেই ডেকে আনা বিরাট বিপদ।
কেন জমা জলে এসি চালানো বিপজ্জনক? গাড়ির এসি অন থাকা মানেই এর কুলিং ফ্যান অনবরত ঘুরতে থাকা। জল জমে থাকা রাস্তা দিয়ে গাড়ি যখন পার হয়, তখন সজোরে ঘুরতে থাকা সেই ফ্যান বাইরের জলকে ভেতরের দিকে টেনে নেয়। এর জেরে ইঞ্জিনের এয়ার ইনটেক বা এয়ার ফিল্টারে জল ঢুকে যাওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। ইঞ্জিনের অন্দরে জল প্রবেশ করলেই তৈরি হতে পারে ভয়াবহ ‘হাইড্রো লক’ (Hydro-lock) পরিস্থিতি। যার ফলে মাঝরাস্তাতেই গাড়ি বন্ধ হয়ে গিয়ে সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যেতে পারে ইঞ্জিন।
এ ছাড়া, জলজমা রাস্তার মধ্যে এসির ফ্যান দ্রুত ঘুরলে জলে ভেসে থাকা প্লাস্টিক বা অন্যান্য জঞ্জাল ফ্যানের ব্লেডে জড়িয়ে ফ্যান ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমনকি গাড়ির ইন্টারনাল ইলেকট্রিক্যাল সার্কিট ও রেডিয়েটরের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে, যার মেরামতের খরচ পকেটের দফারফা করে দিতে যথেষ্ট।
জলজমা রাস্তায় চালকদের কী করণীয়?
-
এসি সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করুন: রাস্তার জল গাড়ির চাকার উচ্চতা বা তার বেশি দেখলেই তৎক্ষণাৎ গাড়ির এসি বন্ধ করে দিন।
-
ডিফগার ব্যবহার করুন: বৃষ্টি ও জমা জলে এসি বন্ধ রাখলে গাড়ির কাচ অনেক সময় আবছা হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে কাচ পরিষ্কার রাখতে এসি বন্ধ রেখেই ‘ডিফগার’ (Defogger) ব্যবহার করুন অথবা কাচ সামান্য নামিয়ে রাখুন।
-
সঠিক গিয়ার নির্বাচন: জলজমা রাস্তা পার হওয়ার সময় গাড়ি সবসময় প্রথম বা দ্বিতীয় গিয়ারে রাখুন। অ্যাক্সিলারেটরে সমান চাপ বজায় রেখে চলুন, যাতে এক্সজস্ট পাইপ দিয়ে ইঞ্জিনের ভেতরে জল ঢুকতে না পারে।
একটু সচেতনতা এবং সঠিক সময়ে এসি বন্ধ রাখার সামান্য অভ্যাসই বর্ষার মরসুমে আপনার সাধের গাড়িটিকে মেকানিকের হাজার হাজার টাকার বিল থেকে নিরাপদে বাঁচাতে পারে।