জেল থেকে চলছে খুনের ছক? কংগ্রেস নেতা হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার বাড়তেই বিস্ফোরক অভিযোগ অধীরের

নদিয়ায় কংগ্রেস নেতা ও তাঁর ছেলেকে নির্মমভাবে খুনের ঘটনায় ক্রমশ জোরালো হচ্ছে আইনি প্রক্রিয়া। এই হাই-প্রোফাইল মামলায় সোমবার বিকেলে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর ফলে ধৃতের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ জনে। তবে মূল ষড়যন্ত্র এবং এর নেপথ্য রাজনৈতিক যোগসূত্র নিয়ে সরব হয়েছে রাজ্য কংগ্রেস নেতৃত্ব।

গ্রেফতারের সংখ্যা বৃদ্ধি: স্বাধীনতা দিবসের দিন গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয় নদিয়ার জেলা কংগ্রেস সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান ও তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ান রহমানকে। এই ঘটনায় মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। এর আগে পুলিশ স্থানীয় তৃণমূল পরিচালিত হরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ফতেমা বিবি এবং তাঁর দুই সহযোগী সাহেব মুহুরি ও মিঠু শেখকে গ্রেফতার করেছিল। এরপর সোমবার বিকেলে বিশ্বজিৎ বিশ্বাস ও রাজেন নামের আরও দু’জনকে পাকড়াও করে পুলিশ, যদিও এফআইআর-এ থাকা মূল অভিযুক্তদের তালিকায় সরাসরি এদের নাম ছিল না।

জেলের ভিতর থেকে ছক কষার অভিযোগ: কংগ্রেস নেতৃত্বের জোরালো অভিযোগ, এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের মূল মাস্টারমাইন্ড হলেন ফতেমা বিবির স্বামী তথা হরনগর অঞ্চলের তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি জুব্বার শেখ। একাধিক ফৌজদারি মামলায় তিনি বর্তমানে জেলের অন্দরে বন্দি থাকলেও, সেখান থেকেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ রেখে গোটা খুনের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছিলেন বলে দাবি কংগ্রেসের শীর্ষ মহলের।

প্রাক্তন সাংসদ অধীর চৌধুরী এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “জেলখানার মধ্যে বসে কীভাবে খুনের স্কিম তৈরি হয়? জেলের ভেতরে বসে যোগাযোগ করে অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছিল।” একইসঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও পুলিশি ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ফরেন্সিক তদন্ত ও ভবানীভবন অভিযান: এদিকে সোমবার দুপুরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল নাগাদি রেলগেটের কাছে পৌঁছে নমুনা সংগ্রহ করে একটি ফরেন্সিক টিম। যে গাড়িতে করে যাওয়ার সময় ওই দুজনকে গুলি করে খুন করা হয়েছিল, সেই গাড়ি থেকেও বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

অন্যদিকে, নদিয়ায় কংগ্রেস নেতা ও তাঁর পুত্র খুন এবং বাঁকুড়ায় এক রাজনৈতিক কর্মীর পিতাকে হত্যার প্রতিবাদের জেরে এদিন রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক পারদ চড়ে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির নেতৃত্বে ভবানীপুর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা পরে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। পরবর্তীতে কংগ্রেসের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ভবানী ভবনে গিয়ে প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ডেপুটেশন জমা দেয়। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও সমস্ত অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবিতে অনড় রয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্ব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *