কলকাতায় এবার কড়া পদক্ষেপ! এক ধাক্কায় প্রায় ১৯০০ রাস্তাকে ‘নো হকিং জোন’ ঘোষণা করল কেএমসি

শহরের যানজট ও দুর্ঘটনা এড়াতে ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে এবার আরও কড়া অবস্থানে গেল কলকাতা পুরনিগম (KMC)। অতীতে বিভিন্ন সময় হকার হঠাতে উদ্যোগী হলেও এবার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে ময়দানে নেমেছে প্রশাসন। সম্প্রতি কেএমসি-র টাউন ভেন্ডিং কমিটির (TVC) এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে শহরের মোট ১,৮৯২টি রাস্তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নো হকিং জোন’ বা হকারমুক্ত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।
কী বলছে নতুন নির্দেশিকা? প্রশাসনিক সূত্রে খবর, দুর্ঘটনা ও তীব্র যানজট এড়াতে কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলির চারপাশের ৫০ ফুট এলাকা হকারমুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ভবন, বাজার এবং স্কুল গেটের সামনের এলাকাগুলি থেকেও অবৈধ দখল সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো হকার যদি এই ‘নন ভেন্ডিং জোন’-এ বা নিষিদ্ধ এলাকায় দোকান বসান, তবে তাঁকে প্রথমে তিনবার সতর্ক করা হবে। তারপরেও যদি তিনি নির্দেশ অমান্য করে দোকান না সরাन, তবে হকারদের সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা থেকে শুরু করে আইনি পদক্ষেপ বা গ্রেফতার পর্যন্ত করা হতে পারে।
থাকছে সুনির্দিষ্ট কিছু বিধিনিষেধ: পুরনিগমের নতুন নিয়মাবলী অনুযায়ী, শহরের সমস্ত ফুটপাথ বা রাস্তার ওপর হকারদের বসার ক্ষেত্রে কিছু কড়া শর্ত আরোপ করা হয়েছে—
-
পাঁচ ফুটের কম চওড়া কোনো ফুটপাথে হকাররা বসতে পারবেন না।
-
যে সমস্ত ফুটপাথে হকারি করার অনুমতি মিলবে, সেখানে ফুটপাথের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ জায়গায় দোকান করা যাবে এবং দোকানের একটি নির্দিষ্ট মাপ ও অস্থায়ী কাঠামো থাকতে হবে।
-
পিচ রাস্তার ওপর সরাসরি হকারি করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পুনর্বাসন ও সমীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন: কেন্দ্রীয় হকার আইন অনুযায়ী, কোনো হকারকে উচ্ছেদ করার আগে তাঁকে আইনি সমীক্ষার মাধ্যমে ভেন্ডিং সার্টিফিকেট দিতে হবে এবং নন-ভেন্ডিং জোন থেকে তুলে এনে ভেন্ডিং জোনে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে বাস্তবে এখনও পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি বলে অভিযোগ।
এই বিষয়ে টিভিসি সদস্য মুরাদ হোসেন জানান, শহরে ‘নন ভেন্ডিং জোন’ নির্দিষ্ট করা হলেও এখনও পর্যন্ত হকারদের আইনানুগ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়নি। অতীতে একটি সমীক্ষায় আড়াই হাজার হকারকে সার্টিফিকেট দেওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে দ্রুত সচিত্র পরিচয়পত্র প্রদান এবং নিয়মানুগ সমীক্ষার কাজ শেষ করার দাবি তুলেছেন তিনি। প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপে কলকাতার ফুটপাথ কতটা দখলমুক্ত হয়, এখন সেটাই দেখার।