৫ বছর পর দেখে নেব! পুলিশকে ভ্যানে বসেই হুমকি তৃণমূল নেতার, তোলপাড় মালদা

মালদার রতুয়ায় তৃণমূল বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কি এবার জাল গোটাতে শুরু করল পুলিশ? সমবায় সমিতির জমি বিক্রির অভিযোগে বিধায়ককে তলবের দু’দিনের মাথায় তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তৃণমূল নেতা শ্রবণ কুমার দাসের গ্রেফতারি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল মালদায়। শুক্রবার আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের উদ্দেশ্যে ওই নেতার হুমকির ভিডিও ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

সরকারি কাজের বরাত পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ঠিকাদারের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা কাটমানি নেওয়া, টাকা নেওয়ার পরেও কাজ না-করা এবং উল্টে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সামসি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান তথা বর্তমান সদস্য শ্রবণ কুমার দাসের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার রাতে রতুয়া থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। চাঁচলের মহকুমা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে ধৃত তৃণমূল নেতাকে চাঁচল মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। তাঁকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় পুলিশ। আদালতের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রিজন ভ্যানে বসে পুলিশকে উদ্দেশ্য করে শ্রবণ কুমার দাসকে বলতে শোনা যায়, “পাঁচ বছর পর দেখে নেব।” তাঁর এই দম্ভোক্তি ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।

অভিযোগকারী সামসি এলাকার বাসিন্দা তথা ঠিকাদার ওয়াসিম আক্ররমের দাবি, পঞ্চায়েতের প্রধান থাকাকালীন সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর কাছ থেকে ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরেও কাজ পাননি তিনি। উল্টে টাকা ফেরত চাইলে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো। ওয়াসিমের দাবি, বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদেই শ্রবণ কুমার দাস এলাকায় নিজের প্রভাব খাটাতেন। তোলাবাজির পাশাপাশি জমি দখলের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সমবায় সমিতির জমি বিক্রির অভিযোগে রতুয়ার বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়কে চাঁচল থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। ওই সময় তাঁকে ঘিরে বিজেপি কর্মীরা ‘চোর চোর’ স্লোগানও দিয়েছিলেন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না-কাটতেই বিধায়কের ঘনিষ্ঠ নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির। যদিও বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায় এই বিষয়ে জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে কলকাতায় আছেন এবং এই ঘটনা সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানেন না।

ঘটনাটি নিয়ে মালদা উত্তর বিজেপির সাধারণ সম্পাদক অভিষেক সিংঘানিয়া বলেন, “যাঁরা এতদিন ক্ষমতার ছত্রছায়ায় থেকে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন, এখন তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। তোলাবাজি ও জমি দখলের মতো অভিযোগে অভিযুক্ত কাউকে রাজনৈতিক পরিচয় দেখে ছাড় দেওয়া উচিত নয়। বিধায়ক থেকে শুরু করে তাঁর ঘনিষ্ঠ প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।” অভিযুক্ত নেতার গ্রেফতারি এবং হুমকির ঘটনায় আপাতত তদন্তের গতিপ্রকৃতি কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে জেলাবাসী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *