১৫ অগস্টে বড় বিপদের আশঙ্কা? লালকেল্লার পাশাপাশি কলকাতার নিরাপত্তা নিয়ে চাঞ্চল্যকর নির্দেশ পুলিশের!

স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রাক্কালে পুরোপুরি নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হল মহানগরী কলকাতাকে। আগামী ১৫ অগস্টের আগে শহরের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, সরকারি ভবন, প্রধান রাস্তা, জনবহুল স্থান এবং স্পর্শকাতর পয়েন্টগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এক লপ্তে অনেকটাই বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা নাশকতা এড়াতে চরম সতর্ক অবস্থায় রয়েছে কলকাতা পুলিশ। শহরের রাজপথে বাড়ানো হয়েছে পুলিশি টহল এবং প্রয়োজনে যানবাহন আটকে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, স্বাধীনতা দিবসের দিন ভোর থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় সাড়ে চার হাজার পুলিশ কর্মী সরাসরি রাস্তায় মোতায়েন থাকবেন। পরিস্থিতি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এই সংখ্যা কম-বেশি করা হতে পারে। প্রতি বছরই স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, তবে এবারের নিরাপত্তার রূপরেখা আরও বেশি কঠোর ও সুবিন্যস্ত।
পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, স্বাধীনতা দিবসের আগে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ও জনবহুল জায়গাগুলিতে বাড়তি নজরদারি বজায় রাখতে হবে। কোনো রকম সন্দেহজনক পরিস্থিতি তৈরি হলে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সমস্ত পুলিশকর্মীকে সতর্ক রাখা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাসমূহের আশপাশে নজরদারির পাশাপাশি প্রবেশ ও প্রস্থানের প্রতিটি পথেও জারি রয়েছে কড়া সতর্কতা।
স্বাধীনতা দিবসের দিন শহরের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের ভিড় উপচে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কথা মাথায় রেখে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ নাগরিকদের সামগ্রিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে পুলিশের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হচ্ছে। শুধু রাস্তায় পুলিশ মোতায়েন করাই নয়, শহরের সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর মাল্টি-লেয়ার সার্ভিলেন্স বা বহুমাত্রিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।
কোনো পরিত্যক্ত ব্যাগ, প্যাকেট বা সন্দেহজনক বস্তু চোখে পড়লে তা ভুলেও স্পর্শ না করে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় থানাকে খবর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের উদ্দেশে কলকাতা পুলিশের স্পষ্ট বার্তা, স্বাধীনতা দিবসের এই আনন্দঘন ও পবিত্র মুহূর্তে প্রত্যেকেই যেন সতর্ক থাকেন। শহরের কোথাও কোনো অস্বাভাবিক গতিবিধি চোখে পড়লে তা উপেক্ষা না করে দ্রুত পুলিশকে জানান এবং যেকোনো তথ্য যাচাই না করে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকুন। ১৫ অগস্ট পর্যন্ত এই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কড়া হাতে বজায় রাখবে লালবাজার।