স্ত্রীকে “বন্ধ্যা” বলা কি অপরাধ নয়? এলাহাবাদ হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে ওলটপালট হয়ে গেল সব হিসেব!

স্বামী-স্ত্রীর উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার সময় স্ত্রীকে “বন্ধ্যা” বলে কটূক্তি করাটা ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮-এ ধারার অধীনে স্বাভাবিকভাবে অপরাধমূলক ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হতে পারে না। এমনই এক যুগান্তকারী রায় দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। একইসঙ্গে দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামীর বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত ফৌজদারি মামলাও খারিজ করে দিয়েছে আদালত।
‘বার অ্যান্ড বেঞ্চ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ শুক্লা স্বামীর দায়ের করা একটি আবেদনের শুনানি করছিলেন। লখনউয়ের একটি আদালত নিষ্ঠুরতা, যৌতুকের দাবি এবং ইচ্ছাকৃত অপমানের অভিযোগে ওই স্বামীকে তলব করেছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
আদালতের পর্যবেক্ষণে কী উঠে এল? মামলার বিবরণে প্রকাশ, সন্তান না হওয়ার কারণে দম্পতির মধ্যে প্রায়শই অশান্তি লেগেই থাকত। ঝগড়ার সময় স্বামী ও তাঁর বাড়ির লোকজন স্ত্রীকে “বন্ধ্যা” বলে অভিহিত করতেন, আবার স্ত্রীও স্বামীকে “নপুংসক” বলে পালটা কটূক্তি করতেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই মন্তব্যগুলোকে নিছক দাম্পত্য কলহ এবং পারস্পরিক আপত্তিকর ভাষা বিনিময়ের প্রেক্ষাপটে বিচার করা উচিত।
বিচারপতির বেঞ্চ পরিষ্কার জানিয়েছে, সন্তানহীনতা নিয়ে কেবল কটূক্তি করা বা পারিবারিক কলহ থেকে উদ্ভূত মৌখিক তর্ক-বিতর্ক—এগুলি যদি আইপিসির ৪৯৮-এ ধারার নিষ্ঠুরতার শর্ত পূরণ না করে, তবে তা এককভাবে অপরাধ হতে পারে না। এছাড়া ওই মন্তব্যের জেরে মহিলাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার বা তাঁর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির কোনো উদ্দেশ্য ছিল না বলেও আদালত উল্লেখ করে।
যৌতুকের অভিযোগ এবং ৪৯৮-এ ধারার আসল উদ্দেশ্য: আদালত আরও লক্ষ্য করেছে যে, স্বামীর বিরুদ্ধে আনা যৌতুকের দাবির অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ সাধারণ ও অস্পষ্ট প্রকৃতির এবং এর সপক্ষে কোনো চিকিৎসা সংক্রান্ত বা অকাট্য প্রমাণ মেলেনি। হাইকোর্ট অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, ৪৯৮-এ ধারার মূল উদ্দেশ্য স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার প্রতিটি মতপার্থক্য বা দাম্পত্য জীবনের অপ্রীতিকর ঘটনাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা নয়। দাম্পত্য কলহ থেকে তৈরি হওয়া সমস্ত সমস্যার সমাধান কখনোই ফৌজদারি মামলা দায়েরের মাধ্যমে হতে পারে না।
সব দিক বিবেচনা করে আদালতের বেঞ্চ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, এই মামলার অভিযোগগুলি অত্যন্ত অবিশ্বাস্য। তাই স্বামীর বিরুদ্ধে চলমান সমস্ত আইনি কার্যক্রম বাতিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে আদালত এও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই রায় কোনো সাধারণ লাইসেন্স নয়; বরং মামলার সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি এবং উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি আক্রমণের কথা মাথায় রেখেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।