‘মাদ্রাসায় জাতীয় পতাকা ওড়েনি তো কোথায় উড়বে?’ স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে সমালোচকদের মোক্ষম জবাব

জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ প্রতিটি স্কুলে গাওয়া বাধ্যতামূলক করার কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকার পরই দেশজুড়ে শুরু হয়েছিল জোরদার গুঞ্জন। মাদ্রাসাগুলিতেও কি এই নির্দেশিকা কার্যকর হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল নানা প্রশ্ন। যদিও পরবর্তীতে সেই বিতর্কের অবসান ঘটেছে এবং অধিকাংশ মাদ্রাসাতেই এখন বন্দে মাতরম গাওয়া হচ্ছে। তবে ঠিক স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে ফের একবার দেশের মাদ্রাসাগুলির শিক্ষাব্যবস্থা ও জাতীয়তাবোধ নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। বিশেষ এই দিনে মাদ্রাসার পড়ুয়া ও প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা নিয়ে চলা সেই সমস্ত প্রশ্ন ও আলোচনার গভীরে ঢোকার চেষ্টা করেছে ইটিভি ভারত।

যাঁরা মাদ্রাসার দেশপ্রেম ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে এদিন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও সমাজসেবীরা। আরবীয় ভাষা বিশেষজ্ঞ তথা রহনুমা ফাউন্ডেশনের তরফে মুফতি মহম্মদ কামারুদ্দিন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আজাদির দিন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত প্রতি বছর ১৫ অগস্টে যথাযথ মর্যাদা ও উদ্দীপনার সঙ্গে স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়। মাদ্রাসাগুলিতেও নিয়ম মেনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। তাই বিশেষ এই দিনে মাদ্রাসায় জাতীয় পতাকা ওড়ে না বলে যে অপপ্রচার চলছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।” তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, মৌলানা ও ধর্মীয় পণ্ডিতদের রক্ত ও আত্মত্যাগ জড়িয়ে রয়েছে। ইন্ডিয়া গেটে থাকা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বড় অংশের নামের পাশেই রয়েছে মুসলিমদের অবদান। এছাড়া দেশের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী মৌলানা আবুল কালাম আজাদ থেকে শুরু করে বিখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এপিজে আবদুল কালামের মতো দিকপালরা এই মাদ্রাসা থেকেই উঠে এসেছেন।

কলকাতার তপসিয়া নুরি মহম্মদি জামা মসজিদের ইমাম মৌলানা মহম্মদ মোশারফ হোসেন জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের সমস্ত মাদ্রাসায় যথাযোগ্য সম্মানের সঙ্গে স্বাধীনতা দিবস পালিত হবে। মাদ্রাসায় ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক পঠনপাঠনও দেওয়া হয়, যেখানকার ছাত্রছাত্রীরা আজ আইপিএস অফিসার, বিচারক ও আইনজীবী হিসেবে দেশের সেবা করছেন। যাঁরা মাদ্রাসার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাঁদের ইতিহাস সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞান নেই বলেই মত তাঁর।

সমাজসেবী আদিব আনুর ও আইনজীবী আবদুল বকরও এই অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা করেছেন। আইনজীবী আবদুল বকরের মতে, দেশের সংবিধান অনুযায়ী ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মতো মসজিদ ও মাদ্রাসাতেও বহু বছর ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে স্বাধীনতা দিবস ও প্রজাতন্ত্র দিবস পালিত হয়ে আসছে। কিন্তু বর্তমানে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায় ও শিক্ষাব্যবস্থাকে টার্গেট করে উস্কানিমূলক প্রচার চালানো হচ্ছে, যা দেশের ঐক্য ও সংহতির পরিপন্থী। স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগের মুহূর্তে বিশিষ্টজনদের এই জোরালো বার্তা দেশের সামাজিক সম্প্রীতির আবহকে আরও স্পষ্ট করে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *