বাঘের মুখ থেকে নিশ্চিত মৃত্যু! বান্ধবগড়ে যা ঘটল, তা বিশ্বাস করতেও হাত কাঁপবে

জঙ্গলমহলের গভীরে সাক্ষাৎ মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেন এক যুবক। পোষা মহিষের অসীম সাহসিকতা আর তৎপরতার জেরে বাঘের থাবা থেকে প্রাণে বেঁচে গেলেন মধ্যপ্রদেশের ৩৬ বছর বয়সি রামনরেশ সিং। বান্ধবগড় টাইগার রিজার্ভের কোর এরিয়ায় ঘটে যাওয়া এই রোমহর্ষক ঘটনায় এখন শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা এলাকায়।
ঠিক কী ঘটেছিল? বন দফতর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রামনরেশ তাঁর পোষা দুটি মহিষ খুঁজতে গভীর জঙ্গলে প্রবেশ করেছিলেন। রিজার্ভের পানপাথা কোর এলাকার একটি ঢালু জায়গায় তল্লাশি চালানোর সময় আচমকাই তাঁর সামনে চলে আসে একটি বাঘিনী ও তার শাবক। মুহূর্তের মধ্যে রামনরেশের ওপর চড়াও হয় ক্ষিপ্ত বাঘিনী। হিংস্র আক্রমণে যুবকের একটি হাত মারাত্মক জখম হয়।
মহিষই ত্রাতা: আক্রান্ত রামনরেশ পরে জানান, বাঘিনীটি তাঁকে চেপে ধরে বনের গভীরে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। তিনি ধরেই নিয়েছিলেন যে তাঁর জীবন আজ শেষ। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই ত্রাতা হয়ে ওঠে তাঁর সঙ্গে থাকা পোষা দুটি মহিষ। বন্য জন্তুর সামনে রীতিমতো দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে তারা। মহিষগুলির আকস্মিক ও তীব্র প্রতি আক্রমণে ঘাবড়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত রামনরেশকে ছেড়ে বনের গভীরে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় বাঘিনীটি।
বর্তমানে স্থিতিশীল: ঘটনার পর ওই যুবককে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করেন বনকর্মীরা। তাঁকে প্রথমে অচেতন অবস্থায় মানপুরের সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। বান্ধবগড় টাইগার রিজার্ভের ফিল্ড ডিরেক্টর অনুপম সহায় এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, রামনরেশকে তাৎক্ষণিক তিন হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি, পর্যটক ও স্থানীয়দের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে ওই এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।