২০ বিদ্রোহী সাংসদের সদস্যপদ খারিজ! স্পিকারের উপর ভরসা হারিয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দরজায় তৃণমূল

ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই-তে (NCPI) যোগ দেওয়া দলের ২০ জন বিদ্রোহী লোকসভা সাংসদের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। রাজনৈতিক মহলের জোরালো খবর, আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই ওই বিদ্রোহী সাংসদদের সদস্যপদ খারিজের দাবিতে দেশের শীর্ষ আদালতে আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।

স্পিকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ টানাপোড়েন ও ক্ষোভ: বিদ্রোহী সাংসদদের দায়ের করা দলত্যাগ বিরোধী আইনের অযোগ্যতার আবেদন নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দফতরের সঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্বের তীব্র টানাপোড়েন চলছে। ঘাসফুল শিবিরের অন্দরের খবর, স্পিকারের সিদ্ধান্তের আশায় আর হাত গুটিয়ে বসে থাকতে নারাজ তারা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ না করলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে এবং পরবর্তীতে তাঁদের আবেদনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করছে কালীঘাট।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সম্প্রতি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সরাসরি দেখা করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং ইউসুফ পাঠানদের মতো দলত্যাগী সাংসদদের বিষয়ে দ্রুত ও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার জোরালো দাবি জানান তিনি। সেই বৈঠকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়, আইন এবং সুপ্রিম কোর্টের পূর্বের নির্দেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্পিকার কোনো সিদ্ধান্ত না নিলে তারা বাধ্য হয়েই দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন। তিন মাসের মধ্যে এই ধরনের অভিযোগের নিষ্পত্তি এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের একাধিক পুরনো নির্দেশও আদালতের সামনে তুলে ধরবে দলটি।

সংখ্যা তত্ত্বের দাবি বনাম আইনি লড়াই: গত জুনেই স্পিকারের কাছে এই বিষয়টি প্রথম তুলেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে সাংসদ পদ খারিজের আবেদন করা হয়েছিল। প্রায় দু’মাস অতিক্রান্ত হলেও স্পিকারের দফতর থেকে কোনো সন্তোষজনক উত্তর বা পদক্ষেপ না দেখেই এই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য, তৃণমূলের এই বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সায়নী ঘোষ, আবু তাহের খান, ইউসুফ পাঠান, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ও পার্থ ভৌমিকের মতো পরিচিত ও হেভিওয়েট মুখেরা। বিদ্রোহী সাংসদদের দাবি, লোকসভায় তৃণমূলের মোট ২৮ জন সাংসদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি অংশ তাঁদের সঙ্গেই রয়েছে। সেই সংখ্যাতত্ত্বকে হাতিয়ার করেই তাঁরা এই দলবদলকে সম্পূর্ণ বৈধ বলে দাবি করছেন। শুধু তাই নয়, লোকসভায় পৃথক বসার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি শাসক জোট এনডিএ-র (NDA) রাজনৈতিক কার্যক্রমেও অংশ নিতে শুরু করেছেন তাঁরা। ইতিমধ্যেই এনডিএ-র বিভিন্ন বৈঠকেও তাঁদের দেখা গেছে, যদিও লোকসভার সরকারি নথিপত্রে এখনও তাঁদের পোশাকিভাবে তৃণমূলের সাংসদ হিসেবেই দেখানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, এই দলবদলের আইনি বৈধতা নিয়ে শুরু থেকেই তীব্র আপত্তি ও অনড় অবস্থানে রয়েছে তৃণমূল। দলের স্পষ্ট যুক্তি, অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার অর্থ তাঁরা স্বেচ্ছায় তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদ ত্যাগ করেছেন। ফলে তাঁদের দাবি করা এনসিপিআই-এর সঙ্গে এই অন্তর্ভুক্তি কোনোভাবেই দলত্যাগ-বিরোধী আইনের আইনি সুরক্ষা পেতে পারে না। সংসদে কোনো সুরাহা না মেলায় এবার এই হাই-প্রোফাইল আইনি লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *