দীর্ঘ ২০ বছরের খরা কাটিয়ে বড় ইতিহাস! স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে কোন চমক নিয়ে আসছেন শুভেন্দু অধিকারী?

স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এক সম্পূর্ণ নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের প্রথা ভেঙে এবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে স্বাধীনতা দিবসের আগের সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির জাতীয় ভাষণের পরেই সম্প্রচারিত হবে মুখ্যমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। দূরদর্শন বাংলা এবং আকাশবাণী কলকাতার মাধ্যমে রাজ্যবাসীর ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে তাঁর এই বক্তব্য।
কেন এই সিদ্ধান্ত এত তাৎপর্যপূর্ণ? রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি অত্যন্ত মাস্টারস্ট্রোক সিদ্ধান্ত। কারণ, শেষবার ২০০৬ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে দূরদর্শনের মাধ্যমে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে বার্তা দিয়েছিলেন। তারপর দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর কোনো মুখ্যমন্ত্রী এই প্রথা অনুসরণ করেননি। সেই দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে বদলের বাংলায় ফের সেই পুরনো ধারা ফিরিয়ে আনছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই এই বিশেষ সম্প্রচারের রেকর্ডিং ও যাবতীয় প্রস্তুতি অনেকটাই সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
সুন্দরবনের বাঘের ডেরায় জাতীয় পতাকা! অন্যদিকে, কেবল রেডিও বা টেলিভিশনেই নয়, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রীর গ্রাউন্ড কর্মসূচিতেও থাকছে বিরাট চমক। প্রশাসনিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, এবার সুন্দরবনের দুর্গম ও রোমহর্ষক বাঘের ডেরায় গিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। সুন্দরবনের ব্যাঘ্র প্রকল্প (STR) এলাকাধীন ঝিলা ফরেস্ট ক্যাম্প অফিসে তাঁর এই ঐতিহাসিক কর্মসূচি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে এবং সুরক্ষার চাদরে এলাকা মুড়ে ফেলতে ইতিমধ্যেই সুন্দরবন জুড়ে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচিকে সফল করতে রাজ্যে জোরকদমে প্রচার শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী, যার সূচনা তিনি নিজেই করেছিলেন গত ১০ আগস্ট।