“মোদীজি রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারেন না!”—কনভেনশনে কেন্দ্রকে নিয়ে বিস্ফোরক রাহুল

‘কনস্ট্রাকটিভ কংগ্রেসের জাতীয় সম্মেলন’-এ যোগ দিয়ে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তবে সরকারের সার্বিক সমালোচনা ছাপিয়ে তাঁর বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি চর্চা শুরু হয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস (RSS) নিয়ে করা তাঁর একটি অপ্রত্যাশিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল সাফ জানান, আদর্শগত মতপার্থক্য থাকলেও মতপ্রকাশের অধিকার সকলেরই থাকা উচিত। আর সেই কারণেই প্রয়োজনে আরএসএস-এর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় তিনি নিজেই তাদের পক্ষে দাঁড়াবেন বলে মন্তব্য করেন।

এদিন সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন কংগ্রেস সাংসদ। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার দেশের সাধারণ নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করছে এবং জাতির মূল অভিব্যক্তিকে দমন করতে বদ্ধপরিকর। হিন্দু, মুসলিম, শিখ কিংবা জৈন—ধর্ম বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকলেরই নিজেদের কথা স্বাধীনভাবে বলার অধিকার থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নোটবন্দী ও জিএসটি নিয়ে আক্রমণ

আরএসএস প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে রাহুল গান্ধী আরও দাবি করেন, একসময় আরএসএস মূলত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের শক্তির ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। কিন্তু বর্তমান শাসকদলের ভুল নীতি, বিশেষ করে নোটবন্দী এবং ত্রুটিপূর্ণ জিএসটি (GST) প্রবর্তনের জেরে সেই ছোট ব্যবসায়ীদেরই পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আরএসএসে কর্পোরেট অর্থায়নের সূচনা প্রমোদ মহাজন করেছিলেন এবং পরবর্তীতে নরেন্দ্র মোদী সেই পথেই হেঁটে দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভারত-চীন ও আদানি প্রসঙ্গ

কেন্দ্রের বিদেশ নীতি এবং ভারত-চীন সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও এদিন নরেন্দ্র মোদী সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন রাহুল। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, চীন ভারতের ভূখণ্ডে টহল দেওয়ার অনুমতি দেয়নি, অথচ সরকার সেই খবর ধামাচাপা দিয়ে দেশের সুরক্ষার সঙ্গে সরাসরি সমঝোতা করেছে। গালওয়ান উপত্যকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেনা বারবার জমি দখলের কথা বললেও প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন এক ইঞ্চি জমিও কারও দখলে যায়নি। প্রধানমন্ত্রীর এই ধরনের অবস্থান ভারতীয় সেনার মনোবল ভেঙেছে বলে তাঁর দাবি। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ তোলেন যে, বর্তমান সরকারের পুরো মনোযোগ এখন শুধুমাত্র রাজনৈতিক কাঠামো শক্তিশালী করা এবং শিল্পপতি গৌতম আদানির স্বার্থ রক্ষার ওপর নিবদ্ধ রয়েছে।

মোদী-শাহকে নিয়ে তীক্ষ্ণ কটাক্ষ

বক্তব্যের শেষে শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বকে বিঁধে রাহুল বলেন, এই সরকার সাধারণ মানুষের কথা শুনতে চায় না, কিন্তু কংগ্রেস তাদের রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করে ছাড়বে। তাঁর দাবি, দেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির জেরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজকাল রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারেন না। পাশাপাশি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে তীব্র খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, অতীতে টানা ২০ দিন ধরে সংসদে যাঁর দেখা মেলেনি, তাঁকে নিয়েই এত চর্চা হয়। সবমিলিয়ে, কংগ্রেসের এই কনভেনশন থেকে বিরোধী শিবিরের তেজী সুর আসন্ন রাজনৈতিক লড়াইয়ের পারদ যে অনেকটাই চড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *