পেছনের তারিখ দিয়ে কোটি টাকার বোনাস পকেটে! দেশের নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিরাট আর্থিক কেলেঙ্কারি

স্বচ্ছতা উড়িয়ে দিয়ে কোটি কোটি টাকা পকেটে ভরার অভিযোগ। দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট বা আইআইএম-রোহতকের (IIM Rohtak) ডিরেক্টর ধীরজ শর্মার বিরুদ্ধে ভেরিয়েবল পে বা ইনসেন্টিভ বাবদ ৩ কোটি ২০ লক্ষ টাকা নেওয়ার ঘটনায় গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলল কন্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (CAG)। লোকসভায় পেশ করা ক্যাগের সাম্প্রতিক রিপোর্টে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতেই শিক্ষামহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।

বুধবার লোকসভায় পেশ করা সিএজি-র অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, ডিরেক্টর ধীরজ শর্মাকে ২০১৮-১৯, ২০১৯-২০ এবং ২০২০-২১ সালের জন্য ওই বিশাল অঙ্কের ‘ভেরিয়েবল পে’ বা পারফরম্যান্স ইনসেন্টিভ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ক্যাগের তদন্তে উঠে এসেছে এক বিস্ফোরক তথ্য। ডিরেক্টরের এই ইনসেন্টিভ বা বোনাস সংক্রান্ত নিয়মটিই তৈরি এবং কার্যকর করা হয়েছিল ২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর। অর্থাৎ, নিয়মের তোয়াক্কা না করেই পেছনের তারিখ বা পূর্বপ্রভাব (Retrospective effect) থেকে নিয়ম বলবৎ করে কোটি কোটি টাকা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সরাসরি স্বচ্ছতা ও আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের প্রশ্ন তুলেছে ক্যাগের অডিট টিম।

শুধু তাই নয়, ক্যাগের রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে যে ২০২১-২২ এবং ২০২২-র আর্থিক বছরে ওই বোনাস বা ভেরিয়েবল পে অনুমোদনের জন্য যে সমস্ত বাধ্যতামূলক নথিপত্র থাকার কথা, তার একটিও দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে রয়েছে পারফরম্যান্স মেট্রিক্স, মূল্যায়নের সঠিক রিপোর্ট এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মনোনীত প্রতিনিধির সঙ্গে পরামর্শ করার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি। এমনকি, এই বেতন সংক্রান্ত আলোচনা চলাকালীন ডিরেক্টর নিজে সেই বৈঠক থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন কিনা, তার পক্ষেও উপযুক্ত কোনো প্রমাণ বা রেকর্ড পেশ করতে ব্যর্থ হয়েছে আইআইএম রোহতক কর্তৃপক্ষ।

আইআইএম আইন, ২০১৭ অনুযায়ী, ডিরেক্টরদের কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতেই এই ধরনের ইনসেন্টিভ পাওয়ার কথা এবং তা নির্ধারণের পুরো ক্ষমতা রয়েছে বোর্ড অফ গভর্নর্সের হাতে। নিয়ম অনুযায়ী, বোর্ডের কাজ হলো একটি নির্দিষ্ট পারফরম্যান্স মেট্রিক্স তৈরি করা, যার ভিত্তিতে ভেরিয়েবল পে নির্ধারিত হবে। পাশাপাশি, স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest) এড়াতে ডিরেক্টরকে এই জাতীয় আলোচনা থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। কিন্তু রোহতক আইআইএম-এর ক্ষেত্রে এই সমস্ত নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বেনিয়ম করা হয়েছে বলেই অভিযোগ উঠেছে। ক্যাগের এই ঝাঁঝালো রিপোর্টের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *