রূপো ও সোনা জয়ী অ্যাথলিটদের জন্য টাকার বৃষ্টি! কেরালার ঐতিহাসিক পদক্ষেপে অবাক ক্রীড়াজগৎ

আন্তর্জাতিক ময়দানে দেশের মুখ উজ্জ্বল করলেই এবার মিলবে বাম্পার পুরস্কার! খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে এবং তাঁদের সাফল্যের সঠিক মূল্য দিতে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল কেরালা সরকার। বৃহস্পতিবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদক জয়ী এবং কৃতি ক্রীড়াবিদদের জন্য এককালীন মোটা অঙ্কের নগদ পুরস্কারের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্যের ক্রীড়া, যুব বিষয়ক ও বিপণন মন্ত্রী ও জে জনিশ এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে সকলের সামনে তুলে ধরেন।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান ক্রীড়া নীতি খেলোয়াড়দের সাফল্যের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল ছিল। সেই কারণেই পুরনো নিয়ম আমূল বদলে পুরস্কারের পরিমাণ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিনারাই বিজয়নের সরকার। এতদিন পর্যন্ত নিয়ম অনুযায়ী স্বর্ণপদক জয়ীরা ৫ লক্ষ, রৌপ্য জয়ীরা ৩ লক্ষ এবং ব্রোঞ্জ জয়ীরা মাত্র ১ লক্ষ টাকা করে পেতেন। কিন্তু নতুন নীতির ফলে সেই অঙ্ক একলাফে আকাশছোঁয়া হয়েছে।

কাদের পকেট ভরছে এই বিশাল টাকায়?

নতুন এই আর্থিক পুরস্কারের তালিকায় নাম রয়েছে দেশের একাধিক নামী ক্রীড়াতাতার।

  • কমনওয়েলথ গেমসে রুপো জয়ী প্রখ্যাত দীর্ঘ লাফ (Long Jump) তারকা এম শ্রীশঙ্কর এবং পুরুষদের ১০০ মিটার প্যারা অ্যাথলেটিক্সে রৌপ্য পদক জয়ী মোহাম্মদ বাসিল—দুজনকেই কুড়ি লক্ষ (২০,০০,০০০) টাকা করে দেওয়া হবে।

  • অন্যদিকে, অনূর্ধ্ব-১২ বিশ্ব দাবা চ্যাম্পিয়নশিপের বিজয়ী দিবী বিজেশ এবং অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান গেমসের মিশ্র রিলে প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জয়ী ভারতীয় দলের সদস্য স্যান্ড्रा মোল সাবু-কেও কুড়ি লক্ষ টাকা করে নগদ পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

  • এছাড়াও, কমনওয়েলথ গেমসের সাঁতার প্রতিযোগিতার ফাইনালে পৌঁছানো সাজন প্রকাশ এবং ৪ গুণ ৪০০ মিটার মিশ্র রিলে ফাইনালিস্ট অংসা বাবু পাবেন পাঁচ লক্ষ টাকা করে। শুধু তাই নয়, পদক জয়ী তারকা এম শ্রীশঙ্কর ও মোহাম্মদ বাসিলের কোচদেরও বিশেষভাবে সম্মানিত করে দুই লক্ষ টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হবে।

বকেয়া মেটানোর উদ্যোগ ও বিশেষ বরাদ্দ

শুধু নতুন ঘোষণাই নয়, সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে ২০১৯ সাল থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে পদক জয়ী বহু খেলোয়াড়ের নकद পুরস্কার বকেয়া পড়েছিল। সেই সমস্ত लंबित বা বকেয়া টাকা পরিশোধের প্রক্রিয়াও দ্রুত শুরু করে দিয়েছে প্রশাসন। প্রথম দফায় এর জন্য ১.৫ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই বরাদ্দ করা হয়েছে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বাকি সমস্ত অর্থ মিটিয়ে দেওয়ার কাজ সম্পূর্ণ হবে।

সবমিলিয়ে, কেরালার এই নতুন ক্রীড়ানীতি যে রাজ্যের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আরও বেশি আকৃষ্ট করবে এবং পরিকাঠামোকে সম্পূর্ণ খেলোয়াড়-কেন্দ্রিক করে তুলবে, সে বিষয়ে একপ্রকার নিশ্চিত বিশেষজ্ঞ মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *