সাধারণ মানুষের পকেটে কি টান পড়বে? ইউপিআই লেনদেন নিয়ে বড়সড় ভাবনা কেন্দ্রের!

দেশের ডিজিটাল লেনদেনের প্রধান মাধ্যম ইউপিআই (UPI)-কে ভর্তুকির নির্ভরতা থেকে মুক্ত করে আর্থিক দিক থেকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করে তোলার কথা ভাবছে কেন্দ্র। এই উদ্দেশ্যে মূলত দুটি বিকল্প খতিয়ে দেখছে সরকার। সম্প্রতি সংসদের অর্থ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটিকে এই ব্যবস্থার কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। তবে এই সমস্ত পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের ওপর কোনো অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়বে না বলেই প্রাথমিক ইঙ্গিত মিলেছে।
এমডিআর (MDR) পুনর্বহাল নিয়ে জল্পনা
অর্থ মন্ত্রকের আর্থিক পরিষেবা বিভাগের রিপোর্ট অনুযায়ী, সরকার মূলত দুটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে। প্রথমটি হলো— নির্দিষ্ট এবং উচ্চমূল্যের ইউপিআই লেনদেনের ক্ষেত্রে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর (MDR) পুনরায় চালু করা। উল্লেখ্য, এমডিআর হলো সেই ফি, যা ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের থেকে কাটা হয়। দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে একটি টায়ার-ভিত্তিক ইনসেনটিভ কাঠামো তৈরির কথা ভাবা হচ্ছে, যার মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরে ইউপিআই ব্যবস্থার ওপর সরকারি সহায়তার পরিমাণ ধীরে ধীরে কমানো সম্ভব হবে। তবে ব্যবসায়ীদের ওপর এমডিআর ধার্য করা হলে তাঁরা সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে সেই খরচ উসুল করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সরকারি নির্দেশিকা আসেনি।
আগেও ছিল এমডিআর ব্যবস্থা
ভারতে একসময় ইউপিআই ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে এমডিআর প্রযোজ্য ছিল। ২০১৯ সাল পর্যন্ত কিছু নির্দিষ্ট ইউপিআই লেনদেনের পরিমাণের ওপর সর্বোচ্চ ০.৩০ শতাংশ পর্যন্ত এমডিআর ধার্য করা হতো। এরপর ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে সাধারণ মানুষের মধ্যে ডিজিটাল পেমেন্ট জনপ্রিয় করে তোলার লক্ষ্যে সমস্ত ইউপিআই লেনদেনে জিরো এমডিআর (Zero MDR) নীতি কার্যকর করে সরকার। বর্তমানে সেই ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে বড় অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে তা পুনরায় চালুর কথা ভাবা হচ্ছে।
ভর্তুকির বিরাট ফারাক
সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী, জিরো এমডিআর নীতির কারণে হওয়া ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং ইউপিআই লেনদেনকে উৎসাহিত করতে সরকার বাজেটে প্রায় ২,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। অথচ ইন্ডাস্ট্রির আনুমানিক অপারেশনাল বা পরিচালন খরচ প্রায় ২০,৭০০ কোটি টাকা। বর্তমান সরকারি সহায়তার পরিমাণ এই প্রকৃত খরচের তুলনায় অনেকটাই কম। কমিটির মতে, এই বিশাল পার্থক্যের কারণে ইউপিআই ব্যবস্থার সামগ্রিক সুরক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ ব্যাহত হতে পারে।
রেকর্ড ভাঙছে ইউপিআই ব্যবহার
সরকার ও সাধারণ মানুষের নিরন্তর সহযোগিতায় ইউপিআই ব্যবহারে লাগাতার নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে। চলতি বছরের জুলাই মাসেই এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে রেকর্ড ২৯.৯ লক্ষ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। পাশাপাশি, গত মাসে লেনদেনের সংখ্যাও পৌঁছে গিয়েছে ২৩.৬৬ বিলিয়ন বা তারও বেশি অঙ্কে। ভবিষ্যতে এই বিপুল পরিকাঠামো টিকিয়ে রাখতেই এখন নতুন আর্থিক মডেলের সন্ধানে রয়েছে কেন্দ্র।