চিতাবাঘের হামলায় রক্তে ভাসছে মোরাদাবাদ! ১২ জন জখম, মৃত্যুমিছিল থামবে কবে?

উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদ জেলার ঠাকুরদ্বার তহসিল এলাকায় চিতাবাঘের আতঙ্ক এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা চরম ত্রাসের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বন্যপ্রাণীর এই অবাধ বিচরণের জেরে এখনও পর্যন্ত একজন মহিলার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন বারোজনরও বেশি মানুষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন ও বন বিভাগ যৌথভাবে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।

ড্রোন ও খাঁচা পেতে চলছে তল্লাশি

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সম্ভল, রামপুর, আমরোহা এবং বিজনোর জেলা থেকে অতিরিক্ত বনকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী উদ্ধারে ওয়াইল্ডলাইফ এসওএস (আগ্রা) এবং ডব্লিউডব্লিউএফ-এর বিশেষজ্ঞ দলও হাত লাগিয়েছে। এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যেই ১৮টিরও বেশি খাঁচা বসানো হয়েছে, যার মধ্যে লালাপুর ও বল্লিয়া গ্রাম থেকে দুটি চিতাবাঘকে বন্দি করতে সফল হয়েছেন বনকর্মীরা। বাকিদের পাকড়াতে থার্মাল ইমেজিং এবং ড্রোন ক্যামেরার সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কানওয়ার যাত্রার পথ সুরক্ষিত রাখতে বিশেষ মোবাইল ভ্যান, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং পুলিশ চৌকি বসানো হয়েছে।

প্রশাসনের কড়া নির্দেশিকা ও সচেতনতা

গ্রামবাসীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে মাঠে ৬০ থেকে ৭০ জন কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রামে গ্রামে বৈঠক করে কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। একা মাঠে না গিয়ে অন্তত সাত থেকে আট জনের দল বেঁধে কাজ করা, সঙ্গে লাঠি রাখা এবং রাতে ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গবাদি পশুকেও মাঠের পরিবর্তে ঘরের ভেতরে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ক্ষতিপূরণ ও রাজনৈতিক চাপ

আহতদের সমস্ত চিকিৎসার খরচ প্রশাসন বহন করছে। পাশাপাশি নিহত মহিলার পরিবারকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ তহবিল থেকে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বিধায়ক নবাব জান খান ব্যক্তিগতভাবে আহতদের ২৫,০০০ টাকা এবং মৃতার পরিবারকে ৫০,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন। তবে বন বিভাগের তৎপরতা সত্ত্বেও বারবার হামলার ঘটনায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হুঁশিয়ারি, অবিলম্বে বাকি চিতাবাঘগুলিকে উদ্ধার করা না হলে গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন তাঁরা। দিলারি সহ সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে বিপুল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করে মাইকিংয়ের মাধ্যমে লাগাতার সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *