রাঁচিতে রণক্ষেত্র বিধানসভা! ছাত্র আন্দোলনে সংঘর্ষের জেরে ৬০০ জনের বিরুদ্ধে কড়া মামলা

ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতে বিধানসভা অবরোধ ও বিক্ষোভের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করল পুলিশ। গত ১০ই আগস্ট ছাত্রদের বিক্ষোভ চলাকালীন ব্যাপক সংঘর্ষ ও সহিংসতার জেরে প্রায় ৬০০ জন বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০০ জনের নাম নির্দিষ্ট করা হলেও বাকি ৫০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। বিধানসভা থানায় দায়ের করা এই মামলায় বেশ কিছু গুরুতর ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল রাঁচিতে?

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার স্বচ্ছতা এবং একাধিক দাবিকে সামনে রেখে গত ২৫শে জুলাই থেকেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন পরীক্ষার্থীরা। গত ১০ই আগস্ট সেই আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে এবং ছাত্রছাত্রীরা বিধানসভা ঘেরাও করার চেষ্টা করেন। বিক্ষোভকারীরা বিধানসভার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় জগন্নাথপুর মন্দিরের কাছে পুলিশ বাধা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয় এবং পরে লাঠিচার্জ করা হয় বলে অভিযোগ। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি ১৪ জন পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রাঁচি পুলিশ।

রাজনৈতিক তরজা ও বিজেপির বনধ ডাক

পুলিশের এই লাঠিচার্জ ও বলপ্রয়োগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে যে, ছাত্রদের সমস্যা সমাধান না করে উল্টে তাদের ওপর দমনপীড়ন চালানো হচ্ছে। এই ঘটনার প্রতিবাদেই ঝাড়খণ্ডে বনধ ডেকেছে বিজেপি। দলের রাজ্য সভাপতি আদিত্য সাহু স্পষ্ট ভাষায় জানান, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের এই আক্রমণাত্মক ভূমিকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

কী বলছেন ছাত্রনেতারা?

আন্দোলনের মুখ তথা ছাত্রনেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো এই দমনপীড়নের বিরুদ্ধে হুংকার দিয়ে বলেছেন, বর্তমান আন্দোলন এখন আর সাধারণ পর্যায়ে নেই, এটি একটি গণআন্দোলনে রূপ নিয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে কণ্ঠরোধের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, পুলিশি হামলা চালিয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না।

বর্তমানে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে ভিডিও খতিয়ে দেখে অজ্ঞাতপরিচয় দাঙ্গাকারীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে। চাকরিপ্রার্থীদের মূল দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা আনা, জেপিএসসি ও জেএসএসসির কার্যকারিতা উন্নত করা এবং নিরপেক্ষ কোনো সংস্থাকে দিয়ে পুরো ঘটনার তদন্ত করানো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *