হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব পদ থেকে আচমকা ইস্তফা! ২৮ বছরের ক্যারোলিন লেভিটের জায়গায় কে আসছেন?

মার্কিন রাজনীতিতে বড়সড় রদবদল। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব পদ থেকে চলতি মাসের শেষের দিকে পদত্যাগ করার ঘোষণা করলেন ২৮ বছর বয়সি ক্যারোলিন লেভিট। আমেরিকার ইতিহাসে এই prestigious পদে আসীন সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি হলেন তিনি। তাঁর এই আকস্মিক পদত্যাগের সিদ্ধান্ত সামনে আসার পরেই হোয়াইট হাউসের পরবর্তী প্রেস সচিব কে হতে চলেছেন, তা নিয়ে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।

পদত্যাগের কারণ ও ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া

মাত্র ২৮ বছর বয়সে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলানো লেভিট জানিয়েছেন, তিনি তাঁর দুই ছোট সন্তানের লালন-পালনে আরও বেশি সময় দিতে চান। পেশাগত জীবনের এই হাই-প্রোফাইল দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর নেপথ্যে পুরোপুরি পারিবারিক কারণ রয়েছে। অন্যদিকে, লেভিটের এই অবদানের প্রশংসা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে তাঁর “সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহকর্মীদের একজন” এবং “এই দপ্তরের ইতিহাসে অন্যতম সেরা হোয়াইট হাউস প্রেস সচিব” বলে অভিহিত করেছেন।

যদিও ট্রাম্প এখনও লেভিটের উত্তরসূরি হিসেবে চূড়ান্ত কোনো নামের ঘোষণা করেননি, তবুও পরবর্তী মুখপাত্র কে হবেন তা নিয়ে রাজনৈতিক অলিন্দে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি নাম জোরালোভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে।

দৌড়ে এগিয়ে যাঁরা:

১. আলিনা হাব্বা: নিউ জার্সির প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত মার্কিন অ্যাটর্নি আলিনাকে এই পদের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসে আসার আগে তিনি ট্রাম্পের আইনি লড়াইয়ে অন্যতম প্রধান আইনি রক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন এবং টেলিভিশনে ট্রাম্পের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন। অতীতে ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ কেইলি ম্যাকেনানির মতোই আলিনাও আইনজীবী থেকে প্রশাসনের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২. ম্যাট বয়েল: রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম ব্রাইটবার্টের ওয়াশিংটন ব্যুরো প্রধান ম্যাট বয়েলও এই পদের দৌড়ে রয়েছেন। ট্রাম্পের অত্যন্ত প্রভাবশালী ঘনিষ্ট মহল বয়েলকে সমর্থন করছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বয়ং তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন এবং অতীতে বেশ কয়েকটি সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন।

৩. স্টিভেন চেউং: হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেউংও এই পদের অন্যতম দাবিদার। প্রেস সচিবের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত বহু দায়িত্ব তিনি ইতিমধ্যেই সফলভাবে পালন করছেন। সাংবাদিকদের নিয়মিত ব্রিফিং দেওয়া এবং প্রশাসনের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

৪. টেলর বুডোভিচ: হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ ও কর্মী বিভাগের প্রাক্তন ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ টেলর বুডোভিচও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় আছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রাথমিক বার্তা কৌশল নির্ধারণে তাঁর বড় ভূমিকা ছিল। হোয়াইট হাউসে তাঁর দীর্ঘ পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণেই তাঁকে এই পদের জন্য যোগ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

আগস্টের শেষে লেভিটের বিদায়ের পর হোয়াইট হাউসের প্রেস ব্রিফিং রুমে কে নতুন মুখ হয়ে আবির্ভূত হন এবং ট্রাম্পের পরবর্তী শীর্ষ মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব নেন, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *