জেলে বসে ভিআইপি ফোন ব্যবহার! প্রজ্বল রেভান্নার ১৭ সেকেন্ডের ভাইরাল ভিডিওতে তোলপাড়

ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগকারী প্রাক্তন সাংসদ প্রজ্বল রেভান্নাকে বেঙ্গালুরুর পারাপ্পানা আগ্রাহারা সেন্ট্রাল জেলের ভিআইপি সেকশন থেকে সাধারণ কয়েদিদের একটি সাধারণ সেলে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাঁর সেল থেকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার হওয়ার পরেই এই কঠোর পদক্ষেপ করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। বুধবার সন্ধ্যায় এই ঘটনার একটি ১৭ সেকেন্ডের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পরই রাজ্যজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে কী দেখা গিয়েছে?
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে দেখা গেছে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ. ডি. দেবে গৌড়ার নাতি তথা জেডি(এস) নেতা প্রজ্বল রেভান্না তাঁর জেলের কক্ষে বসে একটি মোবাইল ফোনে কথা বলছেন। ফোনটি উদ্ধারের পর তাঁকে প্রায় কুড়ি জন সাধারণ কয়েদির সাথে একটি কক্ষে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাঁকে এখন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে জেলের নির্দিষ্ট পোশাক পরতে হবে এবং কারাগারের লাইব্রেরিতে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সর্বসুরক্ষিত একটি কারাগারে কীভাবে এই মোবাইল ফোন প্রবেশ করল, তা নিয়েই এখন সবমহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
কী জানাল কারা বিভাগ?
কারা ও সংশোধন বিভাগের ডিজিপি অলোক কুমার জানিয়েছেন, সেন্ট্রাল ক্রাইম ব্রাঞ্চের (সিসিবি) একটি বিশেষ অভিযানে প্রজ্বল রেভান্নার ব্যারাক থেকে এই অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি জব্দ করা হয়। মঙ্গলবার বিকেলে সিসিবি জেলটিতে এই অভিযান চালায়। এর আগে গত ৬ আগস্ট জেল কর্মকর্তারা তাঁর ব্যারাকে তল্লাশি চালালেও তখন কোনো নিষিদ্ধ সামগ্রী পাওয়া যায়নি। এই চরম নিরাপত্তার গাফিলতির অভিযোগে সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট ইরান্নাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং জেল সুপারিনটেনডেন্ট অংশু কুমারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পুরো ঘটনাটির উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে ঝড়ের পূর্বাভাস
আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশনের ঠিক প্রাক্কালে এই বিতর্ক সামনে আসায় কর্ণাটকের রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে মন্ত্রী বি. নাগেন্দ্রের পদত্যাগের ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিরোধী দল বিজেপি এবং জেডি(এস) বিধানসভার কার্যক্রম আটকে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে, যার জেরে এই কারাগার কাণ্ড বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।
প্রসঙ্গত, যৌন হয়রানির অভিযোগে গত ২০২৪ সালের মে মাসে গ্রেপ্তার হন প্রজ্বল রেভান্না। পরবর্তীতে একটি বিশেষ আদালত তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত লোকসভায় হাসান লোকসভা কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করা এই নেতার জেলজীবন এখন সম্পূর্ণ বদলে গেল এই মোবাইল কাণ্ডের জেরে।