‘জানি না আর কতদিন খেলতে পারব…’ বাবাকে হারিয়ে ইন্টার মায়ামির জার্সিতে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন মেসির!

বাবার মৃত্যুর গভীর শোক ও অবসাদ কাটিয়ে ফুটবল মাঠে অবিশ্বাস্য ও দ্রুত প্রত্যাবর্তন ঘটালেন লিওনেল মেসি (Lionel Messi)। বুধবার ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন বার্তায় যিনি লিখেছিলেন, ‘নিশ্চিত নই, আর কতদিন খেলতে পারব’, বাবাকে হারানোর মাত্র চার দিন পরেই তিনি বুট পরে নেমে পড়লেন ইন্টার মায়ামির জার্সিতে। হোর্হে মেসির মহাপ্রয়াণের পর মনে করা হয়েছিল দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকবেন তিনি, কিন্তু সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে লিগস কাপের ম্যাচে মাঠে নেমে গোটা বিশ্বকে চমকে দিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
বাবাকে হারানোর বেদনা ও আকস্মিক প্রত্যাবর্তন
গত ৮ অগাস্ট দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ের পর ৬৮ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মেসির বাবা তথা তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় পথপ্রদর্শক হোর্হে মেসি (Jorge Messi)। বাবার এই আকস্মিক প্রয়াণে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলেন মেসি। পরিবারকে সময় দিতে ও শোক কাটাতে ফুটবল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিরতি নেওয়ার কথা ভেবেছিলেন তিনি। ইন্টার মায়ামি ক্লাবও তাঁকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
কিন্তু শোকের ঘোর কাটতে না কাটতেই মাত্র চার দিনের মাথায় মাঠে ফিরে আসেন তিনি। লিগস কাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে লিওনসের বিরুদ্ধে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মাঠে নামেন মেসি এবং পুরো হাফ খেলেন। স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকরা দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তবে ম্যাচের ফল ইন্টার মায়ামির পক্ষে যায়নি; লিওনের কাছে ২-৩ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় মায়ামি।
বিপক্ষ ফুটবলারের আলিঙ্গন ও ভাইরাল মুহূর্ত
মাঠে মেসির চোখেমুখে প্রিয় বাবাকে হারানোর স্পষ্ট ছাপ ও মানসিক অবসাদের রেশ ধরা পড়েছিল। এই প্রত্যাবর্তনকে আরও বেশি আবেগঘন করে তোলে ম্যাচের একটি বিশেষ মুহূর্ত। লিওনের ডিফেন্ডার জোহান রোমানা বল ক্লিয়ার করার সময় খেলা থামিয়ে এগিয়ে যান এবং সস্নেহে জড়িয়ে ধরেন শোকে বিহ্বল মেসিকে।
মেক্সিকান ক্লাবটি তাদের অফিসিয়াল সোশ্যাল হ্যান্ডেলে সেই মুহূর্তের ছবি শেয়ার করে মেসিকে শ্রদ্ধা জানিয়েছে। ক্যাপশনে লেখা হয়েছে—‘প্রিয় লিওনেল, এই আলিঙ্গন লিওনের সমস্ত ফুটবলপ্রেমী এবং গোটা ফুটবল দুনিয়ার পক্ষ থেকে আপনার জন্য।’ বাবাকে হারিয়ে সবুজ ঘাসের চত্বরে মেসির এই নিঃসঙ্গ অথচ লড়াইয়ের মানসিকতা আবারও প্রমাণ করল, ফুটবলই তাঁর জীবনের সবথেকে বড় সান্ত্বনা।