প্রতিশ্রুতি রাখল ত্রিপুরা সরকার! কমনওয়েলথ সোনাজয়ী জুডোকা অস্মিতা দে পেলেন জমি ও আর্থিক পুরস্কার

আগেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল যে, গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে দেশের জন্য সোনা জেতা জুডোকা অস্মিতা দে-কে (Asmita Dey) বাড়ি তৈরির জন্য জমি দেওয়া হবে। অবশেষে সেই কথামতো ত্রিপুরার সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হলো। বুধবার এক বিশেষ আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে ত্রিপুরার কৃতি সন্তান তথা কমনওয়েলথ গেমসের সোনাজয়ী অস্মিতা দে-কে সংবর্ধনা জানাল রাজ্য সরকার। এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে ১০ লক্ষ টাকার একটি চেক এবং বাড়ি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় জমির দলিল তুলে দেওয়া হয়।

কমনওয়েলথ গেমসের ঐতিহাসিক সাফল্য
এর আগে গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসে মহিলাদের ৪৮ কেজি জুডো বিভাগে ফাইনালে দুর্দান্ত লড়াই করেছিলেন অস্মিতা। কানাডার শক্তিশালী প্ৰতিদ্বন্দ্বী হেইডি কোয়াচকে (Heidi Quach) রোমাঞ্চকর ‘গোল্ডেন স্কোর’-এ পরাজিত করে সোনা জিতেছিলেন তিনি। ম্যাচে একবার পিছিয়ে পড়েও তাঁর সেই অভাবনীয় কামব্যাক এবং জয় জুডোর ইতিহাসে ভারতের জন্য কমনওয়েলথ গেমসে প্রথম স্বর্ণপদক এনে দিয়েছিল। তাঁর এই ঐতিহাসিক সাফল্যে গোটা দেশ তথা ত্রিপুরা গর্বিত হয়েছিল।

মুখ্যমন্ত্রীর সংবর্ধনা ও অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা অস্মিতার সংগ্রাম ও সাফল্যকে স্যালুট জানান। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “দক্ষিণ ত্রিপুরার এক সাধারণ গ্রামের সাধারণ পরিবার থেকে গ্লাসগোর পদক জয়ের এই গোটা যাত্রা ছিল এক অসম লড়াইয়ের সমান। তাঁর বাবা ছিলেন একজন সাধারণ সাইকেল মেকানিক। সমস্ত বাধা-বিপত্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তিনি নিজের লক্ষ্যে অবিচল থেকে কঠোর পরিশ্রম করে গিয়েছেন এবং দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান যে, অস্মিতা এর আগে আগরতলায় একটি বাড়ি তৈরি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, আর রাজ্য সরকার সেই ইচ্ছা আজ পূরণ করল। পাশাপাশি, আসন্ন এশিয়ান গেমস (Asian Games) নিয়ে স্বর্ণপদকজয়ী জুডোকাকে একটি বিশেষ পরামর্শ ও সতর্কবার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, খাবার দাবারের বিষয়ে অস্মিতাকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে, কারণ এশিয়ান গেমসে যোগ দেওয়ার আগে তাঁকে কঠোর ডোপ পরীক্ষার (Dope Test) মুখোমুখি হতে হবে। কমনওয়েলথ গেমসের মতোই এশিয়ান গেমসেও তিনি দেশের হয়ে সোনা আনবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও অস্মিতার বর্তমান পরিচয়
ত্রিপুরা সরকারের এই জমকালো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন যুব বিষয়ক ও ক্রীড়ামন্ত্রী টিংকু রায়, আগরতলার মেয়র দীপক মজুমদার এবং দেশের অন্যতম গর্ব তথা অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত জিমন্যাস্ট দীপা কর্মকার।

উল্লেখ্য, বর্তমানে অস্মিতা উত্তরপ্রদেশ পুলিশে কর্মরত এবং তিনি বেনারসে থাকেন। গত বছর ডিসেম্বরে তাঁর বাবার জীবনাবসান হলেও তাঁর মা ও তিন ভাইবোন এখনও ত্রিপুরাতেই রয়েছেন। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের জন্মভূমি ও শেকড়ের প্রতি অস্মিতার এই অটুট টান এবং বিনীত মনোভাব দেখে মুগ্ধ হয়েছেন অনুষ্ঠান উপস্থিত সকলে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *