রাঁচিতে বিধানসভা ঘেরাও কাণ্ডে কড়া পদক্ষেপ! ছাত্র আন্দোলনের জেরে ৬০০ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর পুলিশের

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতে চাকরিপ্রার্থীদের বিধানসভা ঘেরাও অভিযান ঘিরে সৃষ্ট চরম অশান্তির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কঠোর আইনি পদক্ষেপ করল পুলিশ। গত ১০ আগস্টের ওই সহিংস আন্দোলনের জেরে প্রায় ৬০০ জন বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০০ জন অভিযুক্তের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হলেও বাকি ৫০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার কাজ চলছে বলে জানিয়েছে রাঁচি পুলিশ।
ঠিক কী ঘটেছিল গত ১০ আগস্ট?
জেপিএসসি (JPSC) ও জেএসএসসি (JSSC)-র নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা আনা এবং বাতিল হওয়া পরীক্ষাগুলি পুনরায় চালুর দাবিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চালাচ্ছেন পরীক্ষার্থীরা। গত ১০ আগস্ট হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী ব্যারিকেড ভেঙে বিধানসভার দিকে এগোনোর চেষ্টা করলে জগন্নাথপুর মন্দিরের কাছে এলাকাটি রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাস এবং বেপরোয়া লাঠিচার্জ করে। পুলিশের দাবি, আন্দোলনকারীদের একাংশ হিংসাত্মক হয়ে পাথর ছুড়তে শুরু করেছিল। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাঁরা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ দেখালেও পুলিশ তাঁদের ওপর অমানবিক বলপ্রয়োগ করে। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষ মিলিয়ে বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী ও আন্দোলনকারী আহত হন।
আন্দোলনের নেপথ্যে কারা?
এই ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ ও জেএলকেএম (JLKM) নেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো টানা ৯ দিন ধরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়া সত্ত্বেও তিনি অ্যাম্বুল্যান্সে করে বিধানসভা অভিযানে যোগ দেন এবং পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও তিনি ফের আন্দোলনস্থলে ফিরে যাওয়ার জেদ ধরেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে জেপিএসসির প্রাক্তন চেয়ারম্যানের গ্রেফতারির পর চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষোভ আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। সিবিআই তদন্ত এবং নিয়োগে দুর্নীতির নিরপেক্ষ বিচারের দাবিতে তাঁরা অনড় রয়েছেন।
রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে
পুলিশের এই কঠোর পদক্ষেপ এবং লাঠিচার্জের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রাজ্যের বিরোধী দল ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনগুলি। সরকারের বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের প্রশাসন সাফ জানিয়েছে যে, আলোচনা ও সঠিক বিচার প্রক্রিয়ায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোনোভাবেই বিঘ্নিত হতে দেওয়া হবে না। সব মিলিয়ে, রাঁচির এই ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঝাড়খণ্ডের রাজনৈতিক পারদ এখন চড়চড়িয়ে বাড়ছে।