সীমান্ত পেরিয়ে কচ্ছতীভুর কাছে মাছ ধরায় বিপত্তি! শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার রামেশ্বরমের ৯ মৎস্যজীবী

ফের শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনীর কড়া পদক্ষেপের মুখে পড়লেন ভারতীয় মৎস্যজীবীরা। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সীমানা লঙ্ঘন করে কচ্ছতিভু (Katchatheevu) দ্বীপের কাছাকাছি মাছ ধরার অভিযোগে রামেশ্বরমের ৯ জন মৎস্যজীবীকে গ্রেপ্তার করেছে শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনী। পাশাপাশি, তাঁদের মাছ ধরার নৌকাটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

কোস্টাল সিকিউরিটি গ্রুপ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত এই মৎস্যজীবীরা একটি বড় দলের অংশ ছিলেন। গত ১২ আগস্ট রামেশ্বরম বন্দর থেকে বৈধ পারমিট বা অনুমতি নিয়েই মোট ২৯৭টি মাছ ধরার নৌকা গভীর সমুদ্রে পাড়ি দিয়েছিল।

ধৃত মৎস্যজীবী ও বাজেয়াপ্ত নৌকার বিবরণ
শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনী কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হওয়া নৌকাটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর হলো IND TN 10 MM 329। নৌকাটির মালিক পি. ওয়েলিংটন, যিনি থাঙ্গাছিমাদামের রাজা নগরের বাসিন্দা।

গ্রেপ্তার হওয়া ৯ জন মৎস্যজীবীর পরিচয়:

জে. জনাথন (৪৫)

এ. অ্যান্টনি পিচাই (৩৮)

কে. ভেল্লাইচামি (৫১)

এম. প্রভু (৪৩)

আরোগ্য জেনিস্টন (২৫)

পি. স্টিভিন (৩০)

এম. ডনবস্কো (৫৫)

ভি. আরোগ্য ডেভিন (৩১)

সুব্বাইয়া (৫২)

গ্রেপ্তারের পর ওই ৯ মৎস্যজীবীকে শ্রীলঙ্কার থালাইমান্নার নৌবাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেখানে তাঁদের দফায় দফায় জেরা করা হচ্ছে।

অন্য একটি ঘটনায় বিদেশমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের আর্জি
এদিকে, গত ৬ আগস্ট ঘটা আরও একটি পৃথক ঘটনায় ১১ জন ভারতীয় মৎস্যজীবীকে আটক করেছিল শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনী। এই বিষয়ে কংগ্রেস সাংসদ মানিকম টেগোর (Manickam Tagore) কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

সাংসদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাঝসমুদ্রে মাছ ধরার সময় ওই মৎস্যজীবীদের নৌকাটিতে মারাত্মক যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয়। ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভাসতে ভাসতে শ্রীলঙ্কার জলসীমায় ঢুকে পড়ে এবং দেশটির নৌবাহিনী நெடுনথিবু দ্বীপের কাছ থেকে তাদের আটক করে।

বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করকে লেখা চিঠিতে টেগোর জানান, রমেশ নামক এক ব্যক্তির মালিকানাধীন ওই নৌকাটিতে আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় রামেশ্বরম, পাম্বান, থাঙ্গাছিমাদাম ও কেরালমের মৎস্যজীবীরা বিপদে পড়েন। অনিচ্ছাকৃতভাবে সীমান্ত পার হয়ে যাওয়ার এই ঘটনাকে ইচ্ছাকৃত অনুপ্রবেশ হিসেবে না দেখার আর্জিও জানান তিনি।

কংগ্রেস সাংসদের স্পষ্ট দাবি, এই ধরনের আকস্মিক যান্ত্রিক গোলযোগ বা প্রাকৃতিক কারণে ভেসে যাওয়া নৌকাগুলির ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট প্রোটোকল তৈরি করতে শ্রীলঙ্কা সরকারের সঙ্গে ভারতের একটি স্থায়ী দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করা প্রয়োজন। চিঠির শেষে তিনি অবিলম্বে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চালিয়ে ধৃত ভারতীয় নাবিকদের দ্রুত মুক্তি ও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বিদেশমন্ত্রীর কাছে জোরালো আবেদন জানিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *