রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য বিরাট সুখবর! সপ্তম পে কমিশনে আরও দ্রুত প্রোমোশনের বাম্পার প্রস্তাব নবান্নের

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের ঠিক পরপরই সপ্তম পে কমিশন (7th Pay Commission) গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছিল বর্তমান সরকার। ইতিমধ্যেই মাঝেমধ্যেই সামনে আসা একের পর এক নতুন আপডেটে রাজ্য সরকারি কর্মীদের (Government Employees) মুখে চওড়া হাসির রেখা স্পষ্ট। আর এবার সরকারি কর্মীদের পদোন্নতি বা প্রোমোশন (Promotion) এবং বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট নিয়ে অত্যন্ত লোভনীয় ও বড়সড় একটি আপডেট সামনে এসেছে, যা কর্মীদের উৎসাহ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

পদোন্নতির নিয়মে বড় বদলের প্রস্তাব
সপ্তম পে কমিশন কার্যকর হলে রাজ্য সরকারি কর্মীরা ঠিক কী কী আর্থিক ও পেশাগত সুবিধা পাবেন, তা নিয়ে এখন থেকেই রাজ্যজুড়ে জোরদার চর্চা শুরু হয়েছে। বকেয়া মহারেঙ্গা ভাতা (DA), বেতনবৃদ্ধি থেকে শুরু করে বাড়ি ভাড়া ভাতা এবং অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা—সবক্ষেত্রেই বড় বদলের ইঙ্গিত মিলেছে।

সম্প্রতি সপ্তম পে কমিশনের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্তাবলি ও কার্যপরিধি (Terms of Reference) নির্দিষ্ট করে একটি নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নবান্ন। সেই বিজ্ঞপ্তিতে নতুন পে কমিশনের অধীন ক্যারিয়ার অ্যাডভান্সমেন্ট স্কিম (Career Advancement Scheme)-এ বেশ কিছু যুগান্তকারী পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই প্রস্তাবগুলি যদি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়, তবে রাজ্য সরকারি কর্মীরা আগের তুলনায় অনেক কম সময়ে এবং দ্রুত পদোন্নতির সুযোগ পাবেন।

কবে মিলবে নতুন প্রোমোশন?
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্যের কোনো সরকারি কর্মীর চাকরিজীবনের ৮, ১৫ এবং ২৪ বছর পূর্ণ হলেই কেবল পদোন্নতির সুযোগ মেলে। কিন্তু নবান্নের নতুন প্রস্তাবে সেই সময়সীমা অনেকটাই কমিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো কর্মীর চাকরির ৫, ৮, ১২, ১৮ এবং ২৪ বছর পূর্ণ হলেই প্রোমোশনের সুযোগ দেওয়া হবে। অর্থাৎ দীর্ঘ অপেক্ষার দিন ফুরিয়ে কর্মজীবনের শুরুর দিকেই দ্রুত পদোন্নতির মুখ দেখতে চলেছেন কর্মীরা।

বার্ষিক বেতন বৃদ্ধিতেও বড় চমক
শুধু পদোন্নতিই নয়, এর পাশাপাশি রাজ্য সরকারি কর্মীদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টের (Annual Increment) পরিমাণ নিয়েও একটি বড় প্রস্তাব পেশ করেছে নবান্ন। এতদিন পর্যন্ত বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ৩ শতাংশ থাকলেও, নতুন প্রস্তাবে তা বাড়িয়ে সরাসরি ৫ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। এই প্রস্তাব যদি সফলভাবে কার্যকর হয়, তবে কর্মীদের বার্ষিক আয়ে এক বিরাট ও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

উল্লেখ্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেই সপ্তম পে কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে শুরু হয়। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই জানিয়েছেন যে, আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসের মধ্যেই রাজ্যে নতুন পে কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হবে। আর সেই নির্দিষ্ট লক্ষ্যেই এখন একের পর এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছে রাজ্য সরকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *