কলকাতার রাজপথ ছেড়ে সোজা সুন্দরবনে মুখ্যমন্ত্রী! ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসে কোথায় উড়বে জাতীয় পতাকা?

প্রতি বছরের মতো এবার কলকাতার চেনা ময়দান কিংবা রেড রোডের রাজপথে নয়, বরং এ বারের স্বাধীনতা দিবসে বাংলার সুন্দরবনকে ফোকাসে রেখে এক বিরাট কর্মসূচির পরিকল্পনা করছে রাজ্য প্রশাসন। আগামী ১৫ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি সুন্দরবনে গিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে পারেন—এই গুঞ্জনেই এখন চাঙ্গা প্রশাসনিক মহল। সম্ভাব্য এই ঐতিহাসিক সফরকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই অনুষ্ঠানস্থলের খোঁজখবর নেওয়া থেকে শুরু করে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা—সব দিক থেকেই জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে পুলিশ ও প্রশাসন।

কোথায় হতে পারে মূল অনুষ্ঠান?
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, সুন্দরবনের মাটিতে এই বিশেষ স্বাধীনতা দিবস পালনের জন্য মূলত দুটি জায়গাকে প্রাথমিক তালিকায় রাখা হয়েছিল—গোসাবা কাছারি মাঠ (Gosaba Kachari Maith) এবং সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের ঝিলা ফরেস্ট ক্যাম্প (Zhila Forest Camp)। তবে মুখ্যমন্ত্রীর যাতায়াতের সুবিধা, হেলিকপ্টার ল্যান্ডিংয়ের পরিকাঠামো এবং সাধারণ মানুষের জমায়েতের কথা মাথায় রেখে শেষ পর্যন্ত গোসাবা কাছারি মাঠটিকেই মূল অনুষ্ঠানস্থল হিসেবে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারের তরফ থেকে কোনো চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।

সুন্দরবন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ পরিকল্পনা
রাজনৈতিক মহলের মতে, কলকাতার বাইরে সুন্দরবনের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের এই ভাবনা নেহাতই আকস্মিক নয়। এর পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক প্রশাসনিক মাস্টারপ্ল্যান। গত মঙ্গলবারই বাঁকুড়ায় বসে রাজ্যের সাতটি জেলা নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ী বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠকে পশ্চিমাঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নের পাশাপাশি সুন্দরবনের সার্বিক রূপায়ণ নিয়ে আগামী দিনের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছিল। মূলত সুন্দরবন ও পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে আগামী তিন মাসের জন্য একটি নির্দিষ্ট কৌশল তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়। আর ঠিক সেই আবহে দাঁড়িয়েই স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় দিনে সুন্দরবনকে বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক তৎপরতা
মুখ্যমন্ত্রীর এই সম্ভাব্য সুন্দরবন সফরকে কেন্দ্র করে উপকূলবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সুন্দরবনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং কর্মসূচির প্রস্তুতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে ওই এলাকায় পা রাখেন রাজ্য পুলিশের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। ওই উচ্চপর্যায় প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন—

এডিজি (সাউথ বেঙ্গল) রাজেশ প্রসাদ সিং

এডিজি (কোস্টাল) কুশমা কর

বারুইপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার (SP) এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ASP)

পুলিশের শীর্ষকর্তারা শুধুমাত্র সম্ভাব্য অনুষ্ঠানস্থলই ঘুরে দেখেননি, বরং সুন্দরবনের দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান, যাতায়াতের জলপথ ও স্থলপথ এবং আশপাশের সংবেদনশীল এলাকাগুলিও সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোটা এলাকাকে কড়া নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলার প্রস্তুতি চলছে।

সবমিলিয়ে, ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অঙ্গ হিসেবে সুন্দরবনে এই ধরনের রাজ্যস্তরের কর্মসূচি রূপায়িত হলে তা রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকার সঙ্গে সরকারি উদযাপনের দূরত্ব যেমন কমাবে, তেমনই সুন্দরবনের উন্নয়ন ও জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বকেও নতুন মাত্রায় পৌঁছে দেবে। তবে এখন কেবল অপেক্ষা ১৫ আগস্টের দিন মুখ্যমন্ত্রী ঠিক কোথায় পা রাখেন এবং গোসাবার কোন নির্দিষ্ট মাঠে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন, তার সরকারি ঘোষণার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *