স্বাধীনতা দিবসের আগে বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল! তপসিয়া থেকে আইএসআই যোগে ধৃত পাকিস্তানি নাগরিক

ফের জঙ্গি সন্দেহে এক পাকিস্তানি নাগরিককে গ্রেফতার করে বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। ধৃতের নাম রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব। এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের ফয়সলাবাদের বাসিন্দা রানা রউফের সঙ্গে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর গভীর যোগ রয়েছে।
ভুয়ো পরিচয়ে ভারতে বসবাস ও জাল নথি তৈরি
তদন্তকারীদের দাবি, ভারতীয় নাগরিক হিসেবে সম্পূর্ণ ভুয়ো পরিচয় তৈরি করে কলকাতার তপসিয়ার ঠিকানায় আধার ও ভোটার কার্ড বানিয়ে নিয়েছিল রানা রউফ। এই জাল নথি তৈরি ও ভুয়া পরিচয়পত্র বানানোর অভিযোগে তপসিয়া এলাকা থেকেই আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরেই রানার গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখছিল এসটিএফ।
মোবাইল থেকে উদ্ধার সেনার গোপন ছবি ও পাক যোগের প্রমাণ
ধৃত রানা রউফের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে পাকিস্তানের একাধিক নম্বরে নিয়মিত যোগাযোগের চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। শুধু তাই নয়, তার ফোন থেকে ভারতীয় সেনা, নৌসেনা এবং রেলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইনস্টলেশনের সংবেদনশীল ছবিও উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। এসটিএফের দাবি, ভারতীয় সেনা ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গোপন তথ্য সংগ্রহ করে তা আইএসআই-এর কাছে পাচার করাই ছিল তার মূল কাজ। পাশাপাশি, কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় একাধিক স্থানীয় যুবককে মোটা টাকার লোভে বা অন্যভাবে কাজে লাগিয়ে নিজস্ব একটি নেটওয়ার্ক তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছিল সে।
নেপাল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ ও পালানোর পরিকল্পনা
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১২ সালে নেপাল সীমান্ত পেরিয়ে বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল রানা রউফ। দীর্ঘদিন ধরে তপসিয়া এলাকায় কার্পেন্টার বা ছুতোর মিস্ত্রির কাজ করে নিজের পরিচয় লুকিয়ে রেখেছিল সে। সম্প্রতি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাগাল এড়িয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও ছিল তার। ধৃতদের আজ আদালতে পেশ করা হবে। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে বড় কোনো নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পূর্বের ঘটনার যোগ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
উল্লেখ্য, সম্প্রতি জইশ-ই-মহম্মদের সদস্য সন্দেহে হামিম মণ্ডল নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছিল এসটিএফ। হাওড়ার পিলখানায় ঘাঁটি গেড়ে থাকা হামিমকে জেরা করে এবং এবার রানা রউফের গ্রেফতারিতে রাজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের আগে এই ধরনের আন্তঃদেশীয় গুপ্তচর চক্রের হদিশ মেলায় নিরাপত্তা আরও কড়াকড়ি করা হয়েছে।