দিল্লি বনাম ঝাড়খণ্ড! ছাত্রদের ওপর পুলিশি নির্যাতন ইস্যুতে সংসদ চত্বরে মুখোমুখি দুই শিবির, তুঙ্গে স্লোগানযুদ্ধ

দিল্লিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতন এবং অন্যদিকে ঝাড়খণ্ডে প্রতিবাদী পড়ুয়াদের ওপর রাজ্য পুলিশের লাঠিচার্জ— এই দুই বিপরীতমুখী ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠল দেশের সংসদ চত্বর। দিল্লির ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতি ও ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে যেমন সরব হয়েছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA), তেমনই ঝাড়খণ্ডের ঘটনায় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর ‘নীরবতা’ ও ‘দ্বিমুখী নীতি’র অভিযোগে পাল্টা পথ ঘেরাও করেছে শাসক এনডিএ (NDA)। সংসদ ভবনের মকর দ্বারের সামনে দুই শিবিরের সাংসদদের মুখোমুখি স্লোগানযুদ্ধে তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা রাজনৈতিক আবহাওয়া।

মকর দ্বারে মুখোমুখি দুই শিবির
প্রতি মঙ্গলবারের মতো এ দিনও সংসদ ভবনে আয়োজিত হয়েছিল কেন্দ্রের শাসকজোট এনডিএ-র ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠক। স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগে হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে সেই বৈঠক থেকে বেরিয়ে আসেন শাসক শিবিরের সাংসদেরা, যেখানে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও।

বৈঠক শেষে ঝাড়খণ্ডে ছাত্র আন্দোলনের ওপর পুলিশি বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে সংসদ চত্বরেই প্রতিবাদে ফেটে পড়েন এনডিএ সাংসদেরা। জোটে থাকা এনসিপিআই-এর সাংসদ শতাব্দী রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পাশাপাশি বিক্ষোভে যোগ দেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শর্মিলা সরকারও। রচনা ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, “সমগ্র দেশ আজ বিরোধীদের কাছে জবাব চাইছে, কিন্তু ওদের কাছে দেওয়ার মতো কোনো উত্তর নেই।”

সংসদের মকর দ্বারের সামনে এক পক্ষ যখন স্লোগান তোলে “রাহুল গান্ধী ক্ষমা চান”, অপর পক্ষ থেকে পাল্টা তোপ আসে “অমিত শাহ ক্ষমা চান”। এক দিকে বিরোধী শিবিরের দাবি, দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের ওপর ছররা গুলি চালনা এবং পুলিশি নির্মমতার দায় নিয়ে সংসদে জবাব দিতে হবে অমিত শাহকে। অন্য দিকে, এনডিএ নেতৃত্বের পাল্টা প্রশ্ন, ঝাড়খণ্ডে জেএমএম-কংগ্রেস জোট সরকারের পুলিশ যখন আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর জলকামান ও টিয়ার গ্যাসের শেল ছুড়ল, তখন নীরব কেন রাহুল?

প্রিয়ঙ্কাকে ঘিরে প্রশ্ন, পাল্টা তোপ বিজেপির
এনডিএ সাংসদদের এই হট্টগোল চলাকালীনই সংসদে প্রবেশ করছিলেন ওয়েনাড়ের কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা। তাঁকে দেখেই এনডিএ সাংসদেরা প্রশ্ন তোলেন, ঝাড়খণ্ডের ঘটনা নিয়ে রাহুল কেন মুখে কুলুপ এঁটেছেন?

জবাবে প্রিয়ঙ্কা জানান, “রাহুল ইতিমধ্যেই ঝাড়খণ্ডের আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করেছেন।” পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপির এই প্রতিবাদকে কটungk করে প্রিয়ঙ্কা বলেন, “এই প্রথম দেখলাম শাসক শিবিরের সাংসদেরা প্রতিবাদ করছেন। আসলে আমাদের চাপে পড়ে বাধ্য হয়েই তাঁরা এটা করছেন। এ বার অন্তত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে এসে সরকারি বিবৃতি দেওয়া উচিত।”

তবে কংগ্রেসের এই অবস্থানকে ‘স্ববিরোধী’ বলে দাগিয়ে দিয়েছেন প্রবীণ বিজেপি সাংসদ রবিশঙ্কর প্রসাদ। তিনি বলেন, “বিরোধীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে বেশ কিছু দিন ধরে সংসদের অচলাবস্থা তৈরি করে কাজ পণ্ড করছে। ঝাড়খণ্ডে ছাত্রদের ওপর নির্মম ভাবে লাঠি ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করা হলো, অথচ রাহুল গান্ধী এ নিয়ে নীরব। ওঁর এই স্ববিরোধী অবস্থান স্পষ্ট।”

পাল্টাপাল্টি কৌশলে সুর চড়াচ্ছে দু’পক্ষই
দিল্লিতে পড়ুয়াদের ওপর পুলিশি দমনপীড়ন নিয়ে লাগাতার মোদী সরকারকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চালাচ্ছে বিরোধীরা। কিন্তু সোমবার বিরোধীশাসিত রাজ্য ঝাড়খণ্ডে বিধানসভা অভিযানের সময়ে পুলিশি বলপ্রয়োগের ঘটনা সামনে আসতেই সেই একই অস্ত্রকে ব্যবহার করে পাল্টা চাপ তৈরির রাজনৈতিক কৌশল নিয়েছে শাসক শিবির। যদিও সোমবারই রাহুল গান্ধী স্পষ্ট করেছিলেন যে, স্থান নির্বিশেষে শান্তিকামী শিক্ষার্থীদের ওপর যে কোনও প্রকার পুলিশি হিংসা অন্যায়। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই জোড়া ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাদল অধিবেশনে শাসক-বিরোধী দ্বন্দ্বে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *