মাথা বাঁচাতে কেটারিং ট্রাকে লুকিয়ে পালানো! টার্কি ছাড়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে কোন চাঞ্চল্যকর তথ্য এল সামনে?

ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও বিশ্বজুড়ে এখনও থমথমে পরিস্থিতি এবং হুমকি-হুঁশিয়ারির পালা অব্যাহত। আর ঠিক এই আবহেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) নিরাপত্তা নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে আমেরিকার জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’। তাদের দাবি, গত মাসে তুরস্ক সফরে গিয়ে প্রাণ বাঁচাতে ও গোপনীয়তা বজায় রাখতে বিমানবন্দরের খাবারের ট্রাকে (Catering Truck) লুকিয়ে এক বিমান থেকে অন্য বিমানে স্থানান্তরিত হতে হয়েছিল মার্কিন প্রেসিডেন্টকে।
ঠিক কী ঘটেছিল তুরস্ক সফরে?
রিপোর্ট অনুযায়ী, ন্যাটো (NATO) সম্মেলনে যোগ দিতে গত মাসে তুরস্কের আঙ্কারায় গিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কাতারের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া নতুন বোয়িং ৭৪৭ বিমানে চেপে তিনি প্রথমবার বিদেশ সফরে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু তুরস্ক ছাড়ার সময় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে যায়।
নাটকীয় বিমান বদল: তুরস্ক ত্যাগের সময় সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা ও সাধারণ মানুষের চোখের সামনে ট্রাম্পকে কাতারের দেওয়া বিমানে উঠতে দেখা গেলেও, আসল ঘটনা ঘটেছিল পর্দার আড়ালে। বিমানবন্দরের একটি খাবারের কেটারিং ট্রাকে করে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে তাঁকে মার্কিন বায়ুসেনার একটি ছোট আকারের সামরিক বিমান C-32A-তে তুলে দেওয়া হয়।
‘ডেকয়’ বা টোপ বিমান: কাতারের দেওয়া বিমানটি এবং সাংবাদিকদের বহনকারী পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানটি কার্যত ‘টোপ’ বা ডেকয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এমনকি বিমানে থাকা সাংবাদিকদেরও প্রেস কেবিনের জানালার শেড বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
গোপন যাত্রা ও ব্রিটেনে অবতরণ: ওই ছোট সামরিক বিমানটিতে চেপেই শেষ পর্যন্ত তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প। স্থানীয় সময় রাত ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ ব্রিটেনের আরএএফ মিলডেনহলে (RAF Mildenhall) পৌঁছায় C-32A বিমানটি। এর কিছুক্ষণ পরেই সেখানে ল্যান্ড করে মিডিয়াকর্মীদের বহনকারী পুরনো বিমানটি। সে সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প সাফাই দিয়েছিলেন যে, স্মৃতি রোমন্থনের খাতিরেই তিনি পুরোনো বিমানটি ব্যবহার করছেন এবং নতুন বিমানটি সামরিক কর্মীদের প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে।
কেন এই আকস্মিক ও গোপন পদক্ষেপ?
হোয়াইট হাউসের তরফে বরাবরই দাবি করা হয়েছে যে, কাতারের দেওয়া নতুন বিমানটিতে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে এবং প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তায় কোনো খামতি নেই। কিন্তু হঠাৎ কেন এমন লুকোচুরি করতে হলো?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওই সময় আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত তুঙ্গে ছিল। তুরস্কের সঙ্গে ইরানের সীমান্ত থাকায় এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার কাছে ট্রাম্পকে নিয়ে কোনো বিশ্বাসযোগ্য ও বড় ধরনের হুমকির তথ্য থাকায় সিক্রেট সার্ভিস কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি। কাতারের দেওয়া নতুন বিমানটির নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য নিয়ে আগে থেকেই কিছু প্রশ্ন ওঠায় শেষ মুহূর্তে এই গোপন পরিকল্পনা কার্যকর করা হয়। যদিও পেন্টাগন বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।