প্রতি ৩ মাস অন্তর DA ও DR পর্যালোচনা হোক! অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে বড় দাবি ১০ লক্ষ পেনশনভোগীর

মুদ্রাস্ফীতির বাজারে সাধারণ কর্মী থেকে শুরু করে অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ নাগরিকদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বড়সড় প্রস্তাব দিল ‘ভারত পেনশনার্স সমাজ’ (BPS)। প্রায় ১০ লক্ষ পেনশনভোগীর প্রতিনিধিত্বকারী এই প্রধান সংগঠনটি অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে মহার্ঘ ভাতা (DA) এবং মহার্ঘ ত্রাণ (DR)-এর হার প্রতি তিন মাস অন্তর পর্যালোচনা করার জোরালো দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি, ডিআর-এর হার ২৫ শতাংশ অতিক্রম করলেই তা মূল পেনশনের সঙ্গে একীভূত (Merge) করার বিষয়টি বিবেচনারও আবেদন জানানো হয়েছে।
BPS-এর প্রধান দাবি ও প্রস্তাবসমূহ
সংগঠনটির মতে, বর্তমান ব্যবস্থায় বছরে মাত্র দু’বার ডিএ/ডিআর সংশোধিত হয়, যা ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলাতে যথেষ্ট নয়। এর ফলে পেনশনভোগীদের জীবনযাত্রার মানের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। তাই ত্রৈমাসিক হিসাব এবং ‘পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট’ ক্ষতিপূরণ পদ্ধতি চালুর দাবি জানিয়েছে তারা। গত ৭ আগস্ট কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংগঠনের পক্ষ থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি পেশ করা হয়েছে:
ন্যূনতম পেনশন ও বেতন: বিপিএস-এর দাবি অনুযায়ী, ন্যূনতম পেনশন বাড়িয়ে ৪৫,০০০ টাকা এবং ন্যূনতম মূল বেতন ৬৯,০০০ টাকা (৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর সহ) করা হোক।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর: ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নির্ধারণের জন্য ‘৫.২ ওয়েটেড-ইউনিট ফ্যামিলি ফর্মুলা’ বা পরিবারভিত্তিক গুণক পদ্ধতির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পেনশনের সমতা: ১ জানুয়ারি ২০২৬-এর আগে ও পরে অবসর নেওয়া সম-মর্যাদাসম্পন্ন পেনশনভোগীদের মধ্যে পেনশনের ব্যবধান ঘুচিয়ে সমতা বিধানের দাবিও তোলা হয়েছে।
৫ বছর অন্তর পর্যালোচনা: বেতন ও পেনশন পর্যালোচনার জন্য ১০ বছর অন্তর নতুন কমিশন গঠনের প্রথা ভেঙে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর এই পর্যালোচনা করার দাবি জানানো হয়েছে।
অষ্টম বেতন কমিশনের বর্তমান পরিস্থিতি ও সময়সূচি
১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ভারত পেনশনার্স সমাজ’ ২৪৫টি সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে এই দাবিগুলি কমিশনের সামনে তুলে ধরেছে। বর্তমানে বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বাধীন অষ্টম বেতন কমিশন সমস্ত কর্মচারী সংগঠন ও পেনশনভোগীদের প্রস্তাবগুলি নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা চালাচ্ছে।
দিল্লিতে প্রাথমিক বৈঠক শেষের পর আগামী মাসগুলিতে চেন্নাই, পুদুচেরি, চণ্ডীগড় এবং জয়পুরে কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে গঠিত এই কমিশনের হাতে ১৮ মাসের সময়সীমা রয়েছে। সেই অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে-জুন নাগাদ কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে পেশ করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলায় পেনশনভোগীদের এই ত্রৈমাসিক পর্যালোচনা ও অন্যান্য বড় দাবিগুলি কমিশন তাদের চূড়ান্ত সুপারিশে গ্রহণ করে কি না।