৯টি আলাদা লুক আর রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম! স্বাধীনতা দিবসে পর্দা কাঁপাতে আসছেন বিপ্লবী ‘অনন্ত সিংহ’রূপী জিৎ

দীর্ঘদিন ধরে চিত্রনাট্য বেছে খুব মেপে সিনেমা করার জন্য পরিচিত সুপারস্টার জিৎ। গোটা বছরে হাতে গোনা কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করলেও, তাঁর অনুরাগীদের উন্মাদনা ও উন্মাদ অপেক্ষার শেষ থাকে না। আর এবার, স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ দিনে পর্দায় এক ঐতিহাসিক বিপ্লবীর জীবনকে তুলে ধরতে চলেছেন এই অভিনেতা। পথিকৃৎ বসু পরিচালিত এবং নন্দী মুভিজ ও জিতের যৌথ প্রযোজনায় মুক্তি পাচ্ছে নতুন সিনেমা ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’। ছবি মুক্তির ঠিক আগে, ছবির মেগা বাজেট, ৯টি ভিন্ন লুক, বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বক্স অফিস ব্যবসা নিয়ে ‘এবিপি লাইভ বাংলা’-র সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে একেবারে সোজাসাপ্টা জবাব দিলেন পর্দার ‘অনন্ত সিংহ’ অর্থাৎ জিৎ।
সিনেমায় জিতের ৯টি চমকপ্রদ লুক
‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’ ছবিটিতে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি নিয়ে সিনেপ্রেমীদের মধ্যে চর্চা চলছে, তা হলো জিতের চমকে দেওয়া লুক। এই সিনেমায় বিপ্লবী অনন্ত সিংহের জীবনের ৯টি আলাদা অধ্যায় ও বয়সের বৈচিত্র ফুটিয়ে তুলতে জিৎকে ৯টি ভিন্ন লুকে দেখা যাবে। গোটা বিষয়টি কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল? এই প্রসঙ্গে জিৎ বলেন, “এ কথা সত্যি যে আমি আমার কেরিয়ারে একটি সিনেমার মধ্যে এতগুলো লুক এবং চরিত্রের এতগুলো স্তর নিয়ে কাজ করার সুযোগ এর আগে পাইনি। তবে আমার থেকেও অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং কাজ ছিল আমাদের রূপটানশিল্পী সোমনাথ কুণ্ডুর কাছে। আমরা বারবার লুক টেস্ট করেছি, পরিবর্তন করেছি এবং শেষ পর্যন্ত প্রতিটা লুক একে অন্যের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হয়েছে। অভিনয়ের দিক থেকেও আমি আমার সেরাটা দিয়েছি, বাকিটা দর্শকই বিচার করবেন।”
বাংলা সিনেমার ব্যবসা ও চ্যালেঞ্জ
বর্তমানে একাধিক বাংলা ছবি মুক্তি পেলেও বক্স অফিসে সফল ছবির সংখ্যা হাতে গোনা। এই ছবি প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানবে কি না, তা নিয়ে প্রযোজক বা ব্যবসায়িক দিক নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামাতে নারাজ অভিনেতা। তাঁর স্পষ্ট কথা, “আমি শুধু চাই মানুষ আমার শিল্পীসত্তাকে ভালোবাসুক। ছবির গল্প, অভিনয় সব যেন মানুষের মন ছুঁয়ে যায়। প্রযোজকের জায়গা থেকে এই ছবি নিয়ে আপাতত ভাবতে চাই না, আমি একজন শিল্পী হিসেবেই কথা বলতে চাই।” প্রস্থেটিক মেকআপ ও অ্যাকশনের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, তিনি এই যাত্রাপথকে ভীষণ উপভোগ করেন এবং অভিনেতা হিসেবে ভালো গল্প বলতে পারাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
রাজনীতি, টলিউড এবং রাজ্যের সরকার বদল
দীর্ঘদিন ধরে টলিউডের প্রথম সারির তারকা হয়েও রাজনীতির ময়দান থেকে বরাবরই দূরে থেকেছেন জিৎ। কখনো তাঁকে কোনো রাজনৈতিক মঞ্চে দেখা যায়নি। তবে রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদল হওয়ার পরে নতুন সরকারকে তিনি শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। তৃণমূল জমানায় টলিউডে রাজনীতির প্রভাব নিয়ে অস্বীকার করার জায়গা না থাকলেও, সরকার বদলের পর টলিউডের কী উন্নতি চান তিনি?
এই বিষয়ে অত্যন্ত পরিপক্ব উত্তর দিয়ে জিৎ বলেন, “আগে রাজ্যের উন্নতি হওয়া দরকার। রাজ্যের মানুষের ভাল হওয়া দরকার। রাজ্যের মানুষের যদি ভালো হয়, তাতে টলিউডও সুবিধা পাবে, দেশও সুবিধা পাবে। তবে আমাদের বাংলার সংস্কৃতিকে শক্ত করে ধরে রাখতে হবে। যদি রাজ্যের সংস্কৃতি সুস্থভাবে চলে, বাকি সব সমস্যারও সমাধান হয়ে যাবে। আর যদি রাজ্য সঠিকভাবে চলে, মানুষের পকেটে টাকা থাকে এবং উপার্জন বাড়ে, তাহলে আপনাআপনিই টলিউড উপকৃত হবে।”
শ্যুটিংয়ের নেপথ্য অভিজ্ঞতা ও পরিচালনায় আসার ইচ্ছে
তুলনামূলক নতুন পরিচালক পথিকৃৎ বসুর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে জিৎ বলেন যে পুরো সফরটি তাঁর কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ছিল। সেটে পরিচালকের ইতিবাচক এনার্জি এবং খোলামেলা আলোচনার মনোভাব অভিনেতাকে দারুণভাবে সাহায্য করেছে। এছাড়া চিত্রগ্রাহক (DOP) সমীক হালদারের সঙ্গেও প্রতিদিনের শ্যুটিংয়ের ভাবনাচিন্তা বেশ উপভোগ করেছেন তিনি। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে নিজের পরিচালনায় আসার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না—এমন প্রশ্নে হেসে অভিনেতা জানিয়ে দিলেন, আপাতত পরিচালনার কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই। আগামী ১৫ অগাস্ট প্রেক্ষাগৃহে এই ঐতিহাসিক ও জমজমাট লড়াই দেখতে কতটা প্রস্তুত দর্শকরা, এখন সেটাই দেখার!