ফেসবুকের আগের যুগে বড় চমক! সবার প্রিয় ‘মাইস্পেস’ কি সত্যিই কামব্যাক করছে?

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম কিংবা স্ন্যাপচ্যাটের এই আধুনিক যুগে একটু পিছনে ফিরে তাকালে কেমন হয়? অনেকেরই হয়তো মনে আছে অরকুট (Orkut) কিংবা মাইস্পেসের (MySpace) মতো সেই সোনালী দিনগুলোর কথা। যেগুলিকে নিখাদ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম না বলে খাঁটি বন্ধুত্ব পাতানোর আড্ডা বললেই বোধহয় সঠিক শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হয়। আধুনিক মার্কেটিং বা অ্যালগরিদমের জমানার আগে যেখানে সবার ওপরে প্রাধান্য পেত নিখাদ বন্ধুত্বের আবেগ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তনের হাওয়ায় ইন্টারনেট দুনিয়া থেকে চিরতরে হারিয়ে গিয়েছিল এই প্ল্যাটফর্মগুলি। তবে এবার সমস্ত জল্পনা সত্যি করে পুরনো সেই নস্ট্যালজিক দিনগুলি কি ফের ফিরে আসতে চলেছে?
নতুন করে ফেরার প্রস্তুতি মাইস্পেসের?
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক টেক মহলে জোরালো গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে, জনপ্রিয় সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট মাইস্পেস ফের একবার ইন্টারনেট দুনিয়ায় প্রত্যাবর্তন করার জোরদার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জানা গিয়েছে, এই প্ল্যাটফর্মের মূল সংস্থা ‘ভায়ান্ট টেকনোলজি’ (Viant Technology) সম্প্রতি একটি গোপন সরকারি ডকুমেন্ট জমা করেছে, যেখানে স্পষ্টভাবে মাইস্পেসের কথা উল্লেখ রয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়ার ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন টমি অ্যাভেলোন। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে চিরতরে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এই প্ল্যাটফর্মটি।
সামনে আসা ওই ডকুমেন্টে সংস্থার তরফে বলা হয়েছে, “মাইস্পেসের সম্পূর্ণ মালিকানায় এখনও আমরাই রয়েছি এবং এই ব্র্যান্ডটির যথাযথ তত্ত্বাবধানেও আমরাই আছি। আমরা এটি ফের রিলঞ্চ (Relaunch) করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুতি নিচ্ছি। বর্তমানে কেবল সঠিক একটি সময়ের অপেক্ষায় রয়েছি আমরা।” শুধু তাই নয়, সংস্থার পক্ষ থেকে এও জানানো হয়েছে যে, “যদি প্রথমবার পরিকল্পনা সফল না-ও হয়, তবুও আমরা বারবার চেষ্টা চালিয়ে যাব।”
মাইস্পেসের সোনালী অতীত এবং পথচলার ইতিহাস
২০০৩ সালে টম আন্ডারসন ও চ্যারিস ডিউল্ফ যৌথ উদ্যোগে এই আইকনিক প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করেছিলেন। এরপর ২০১১ সালে ভ্যান্ডারহুক ব্রাদার্স (Vanderhook brothers) এই প্ল্যাটফর্মটি অধিগ্রহণ করে। ইউনিক ইন্টারফেস, দারুণ কাস্টমাইজেবল প্রোফাইল এবং গ্লিটারিং লে-আউটের জন্য আজও অনেকের মনে বিশেষ জায়গা করে রয়েছে মাইস্পেস। পাশাপাশি এই প্ল্যাটফর্মের সবথেকে মজার ও নস্ট্যালজিক বিষয় ছিল একটাই— অ্যাকাউন্ট খোলার পর প্রত্যেক ইউজারের প্রথম বন্ধু স্বয়ংক্রিয়ভাবে একজনই হতেন, যাঁর নাম ছিল ‘টম’!
২০০৮ সালের দিকে নিজের জনপ্রিয়তার একেবারে শিখরে পৌঁছেছিল এই প্ল্যাটফর্ম। সেই স্বর্ণযুগে মাইস্পেসের মাসিক সক্রিয় দর্শক বা ভিজিটর সংখ্যা ছাড়িয়ে গিয়েছিল ১১৫ মিলিয়নে। পরবর্তীকালে ভ্যান্ডারহুক ব্রাদার্স সম্পূর্ণ নতুন একটি মাইস্পেস তৈরির মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মটিকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার চেষ্টা করেছিল। তা সত্ত্বেও, একের পর এক মালিকানা পরিবর্তন এবং বিজ্ঞাপনদাতাদের পুরোপুরি ফেসবুকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার কারণে মাইস্পেসকে এক মারাত্মক আর্থিক লড়াইয়ের মুখে পড়তে হয়।
কোটি কোটি ডলার লোকসানের ধাক্কা
সম্প্রতি জমা পড়া সেই নথিতে ভ্যান্ডারহুক স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই প্ল্যাটফর্মটি ধরে রাখতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত তাঁদের বিশাল আর্থিক লোকসানের ধাক্কা সহ্য করতে হয়েছে। প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলারেরও (১৫ কোটি ডলার) বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন তাঁরা। তবে এত বড় ধাক্কার পরেও ব্র্যান্ডটি পুনরায় বাজারে চালুর বিষয়ে আশাবাদী কতৃপক্ষ, যদিও এর সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মত
বর্তমান প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিগত এক দশকে সোশ্যাল মিডিয়া ল্যান্ডস্কেপে আমূল পরিবর্তন এসেছে। এখন পুরোপুরি পার্সোনালাইজড রেকমেন্ডেশন এবং এআই-ভিত্তিক কন্টেন্ট মডারেশনের ওপর জোর দেওয়া হয়, যা প্রাচীন মাইস্পেসের কাঠামোর সম্পূর্ণ উল্টো। ফলে আজকের এই প্রতিযোগিতার বাজারে পুরনো দিনের মাইস্পেস ফিরে এসে কীভাবে নিজেদের বাজার ধরে রাখবে এবং বর্তমান প্রজন্মকে আকর্ষিত করবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় দেখার বিষয়!