বেদান্ত দর্শনে অনন্য ইতিহাস! বিএপিএস-এর বিশিষ্ট পণ্ডিত স্বামী ভদ্রেশদাস পেলেন ‘বেদান্ত বিদ্যা-বিশ্বগুরু’ উপাধি

বেদান্ত, সংস্কৃত সাহিত্য এবং ভারতীয় জ্ঞান-ঐতিহ্যে অসামান্য ও ঐতিহাসিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এক বিরাট সম্মান জানানো হলো। নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে স্বামীনারায়ণ অক্ষরধামে আয়োজিত এক বিশেষ ও বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বিএপিএস (BAPS)-এর বিশিষ্ট সংস্কৃত পণ্ডিত ও দার্শনিক স্বামী ভদ্রেশদাসকে মর্যাদাপূর্ণ ‘বেদান্ত বিদ্যা-বিশ্বগুরু’ সম্মানসূচক উপাধিতে ভূষিত করা হলো।
প্রস্থানত্রয়ীর রচয়িতা স্বামী ভদ্রেশদাসের অবদান
স্বামী ভদ্রেশদাস হলেন শাস্ত্রীয় সংস্কৃত ভাষায় রচিত উপনিষদ, ব্রহ্মসূত্র ও ভগবদ্গীতা—বেদান্ত দর্শনের এই তিনটি মূল গ্রন্থ বা ‘প্রস্থানত্রয়ী’-র ওপর প্রামাণ্য গ্রন্থসমূহের রচয়িতা। বিএপিএস-এর আধ্যাত্মিক প্রধান প্রমুখ স্বামী মহারাজের বিশেষ অনুপ্রেরণায় রচিত এই গ্রন্থগুলি বেদান্তের এই তিনটি প্রধান স্তম্ভের ওপর এক সম্পূর্ণ ও প্রামাণ্য সংস্কৃত ঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শন স্থাপন করেছে। বর্তমান আধ্যাত্মিক গুরু মহন্ত স্বামী মহারাজের সরাসরি নির্দেশনায় তিনি বিশ্বজুড়ে সংস্কৃত, বেদান্ত এবং ভারতীয় প্রাচীন জ্ঞান-ঐতিহ্যের ব্যাপক প্রচার ও প্রসারের কাজ নিরলসভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি
দিল্লির অক্ষরধামে অনুষ্ঠিত এই মহাসমারোহে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু বিশিষ্ট আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব ও প্রথিতযশা সংস্কৃত পণ্ডিতগণ উপস্থিত ছিলেন। এদিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উডুপির পেজাওয়ার অধোক্ষজা মঠের শ্রী শ্রী বিশ্বপ্রসন্ন তীর্থ স্বামীজী। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শ্রীনিবাস বরাখেদী এবং শ্রী সোমনাথ সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সুকান্ত কুমার সেনাপতি।
পাশাপাশি, এই উচ্চপর্যায়ের সভায় উপস্থিত ছিলেন দেশের খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ ও পণ্ডিতবৃন্দ—অধ্যাপক ভি. নারায়ণন, অধ্যাপক ওমনাথ বিমলি, অধ্যাপক মুরলিকৃষ্ণা, অধ্যাপক গণেশ টি. পণ্ডিত সহ আরও অনেকে।
গুণীজনদের মুখে স্বামী ভদ্রেশদাসের প্রশংসা
এদিনের সভায় শ্রী শ্রী বিশ্বপ্রসন্ন তীর্থ স্বামীজী স্বামী ভদ্রেশদাসের সুগভীর পাণ্ডিত্যের উচ্চ প্রশংসা করেন এবং এই আন্তর্জাতিক মানের সম্মানের তাৎপর্য সবিস্তারে তুলে ধরেন। অধ্যাপক বরখেদী তাঁর বক্তব্যে বলেন, সংস্কৃত প্রস্থানত্রয়ী ঐতিহ্যের আধুনিক ও শাস্ত্রীয় রূপ প্রতিষ্ঠায় স্বামী ভদ্রেশদাসের অবদান স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখার মতো।
অন্যদিকে, অধ্যাপক সেনাপতি তাঁর এই সুদীর্ঘ ও গৌরবোজ্জ্বল পাণ্ডিত্যপূর্ণ যাত্রাপথে গুরু প্রমুখ স্বামী মহারাজ এবং মহন্ত স্বামী মহারাজের অশেষ আশীর্বাদ ও সঠিক পথনির্দেশনার ভূমিকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল অধ্যাপক ভি. নারায়ণনের পাঠ করা সম্মানপত্রটি, যা পাঠ করার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত সকল বিশিষ্ট পণ্ডিত ও অতিথিদের করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে অক্ষরধাম চত্বর।
অনুভূতি প্রকাশ স্বামী ভদ্রেশদাসের
এই বিরল ও মর্যাদাপূর্ণ সম্মান গ্রহণ করার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে স্বামী ভদ্রেশদাস গভীর আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি এই বিশাল সম্মান স বিনয়ে ভগবান স্বামীনারায়ণ এবং তাঁর পরম আরাধ্য গুরু প্রমুখ স্বামী মহারাজ ও মহন্ত স্বামী মহারাজের চরণে উৎসর্গ করেন।