মামলা থেকে মুক্ত হতেই শক্তি প্রদর্শন! ৩ ঘণ্টা পর ১১৫২ দিন কেটে যাওয়ায় বিরাট চাল ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংয়ের

ভারতীয় জনতা পার্টির প্রাক্তন সাংসদ এবং রেসলিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (WFI)-এর প্রাক্তন সভাপতি ব্রিজ ভূষণ শরণ সিং বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশের গোন্ডায় একটি বিশাল ‘সত্যমেব জয়তে’ র‍্যালির মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক শক্তির এক অভাবনীয় প্রদর্শন করতে চলেছেন। মহিলা কুস্তিগীরদের সম্পর্কিত একটি বহুল চর্চিত মামলা থেকে গত ৩ আগস্ট খালাস পাওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম কোনো বড় জনসভা। প্রায় ১১৫২ দিন পর আয়োজিত হতে চলা এই হাই-ভোল্টেজ র‍্যালি ২০২৭ সালের আসন্ন উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, গোন্ডা, বলরামপুর, বাহরাইচ, শ্রাবস্তী এবং অযোধ্যা সহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে প্রায় দুই থেকে তিন লক্ষ সমর্থক এই সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন। আইনি লড়াইয়ের জয়ের পর ব্রিজ ভূষণ প্রথমে বৃন্দাবনে গিয়ে তাঁর গুরু রিতেশ্বর আনন্দ মহারাজের আশীর্বাদ নেন এবং পরে নয়ডায় কন্যা শালিনী সিংয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। আজ তিনি সরাসরি নিজের শক্তঘাঁটিতে বড় শো করতে নামছেন।

৩০০ গাড়ির রোড শো ও জমকালো আয়োজন
বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি চার্টার্ড বিমানে অযোধ্যায় পৌঁছে সেখান থেকে ৩০০টিরও বেশি গাড়ির বিশাল কনভয় নিয়ে গোন্ডার উদ্দেশে রওনা হন ব্রিজ ভূষণ শরণ সিং। তাঁর এই যাত্রা ঘিরে তৈরি হয়েছে তুমুল উন্মাদনা:

ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান: গোন্ডায় পৌঁছে তিনি প্রথমে নন্দিনী গৌমাতা মন্দিরে গিয়ে পুজো, আরতি ও হোমযজ্ঞে অংশ নেন। সেখানে অখণ্ড রামায়ণ পাঠের সমাপনী অনুষ্ঠানেও তিনি যোগ দেন।

বিশাল জনসভা: ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষে তিনি হেঁটে সরাসরি সমাবেশস্থল নন্দিনী নগর স্পোর্টস স্টেডিয়ামে পৌঁছান এবং বিশাল জনসমুদ্রে ভাষণ দেন।

গোন্ডাজুড়ে পোস্টারিং: পুরো জেলাজুড়ে প্রায় ২,৫০০টি ‘সত্যমেব জয়তে’ পোস্টারে ছেয়ে গেছে। নন্দিনী নগর স্টেডিয়ামে বিশাল মঞ্চ, সুপরিসর বসার জায়গা, পর্যাপ্ত পানীয় জল ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বন্দোবস্ত করা হয়েছে।

৪০ কুইন্টাল লাড্ডু ও ২ লক্ষ মানুষের ভোজ!
এই র‍্যালির অন্যতম বড় আকর্ষণ হলো এর খাওয়াদাওয়ার আয়োজন। দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসা সমর্থকদের জন্য কোনো কমতি রাখেনি আয়োজকরা।

বিরাট আয়োজন: অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সমর্থকদের জন্য একেবারে বিশেষ ব্যবস্থায় ৪০ কুইন্টাল লাড্ডু তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২ লক্ষ মানুষের খাওয়ার বন্দোবস্ত করা হয়েছে, যার জন্য একাধিক পেশাদার ক্যাটারিং দলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

২০২৭ নির্বাচন ও প্রশাসনের কড়া নজরদারি
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমাবেশ নিছকই কোনো ধন্যবাদ জ্ঞাপন সভা নয়, বরং ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এটি ব্রিজ ভূষণ শরণ সিংয়ের এক বিরাট রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন। গোন্ডা, কাইজারগঞ্জ এবং সংলগ্ন এলাকায় তাঁর দীর্ঘদিনের প্রভাবের ফের একবার প্রমাণ দিতে মরিয়া তাঁর সমর্থকরা।

অন্যদিকে, এই বিশাল জনসমাবেশ ও ভিড় সামলাতে প্রশাসনও পুরোপুরি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। একজন সার্কেল অফিসারের (CO) প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে নবাবগঞ্জ, তারাবগঞ্জ ও উমরি বেগমগঞ্জ থানার পুলিশসহ বিপুল পরিমাণে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নেওয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *