দিল্লিতে মোদী-মমতার বৈঠক নিয়ে চরম অসন্তোষ! ‘কে ঢুকছে-বেরোচ্ছে মাথা ঘামাই না,’ সাফ জবাব অগ্নিমিত্রার

দিল্লিতে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী ও শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল (NCPI) সাংসদরা। জুন মালিয়া, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েট নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে উচ্ছ্বসিত ও বেজায় খুশি। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই বৈঠকগুলিকে কি আদৌ কোনো গুরুত্ব দিচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির আদি নেতা কিংবা মন্ত্রীরা? তাঁদের কড়া ও উদাসীন মন্তব্য স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে রাজ্য বিজেপির অন্দরে এই ঘটনা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও অস্বস্তি রয়েছে।
আদি বিজেপি নেতাদের স্পষ্ট ও বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া
তৃণমূলের একসময়ের কট্টর বিরোধী থেকে শুরু করে বর্তমান বিজেপি নেতৃত্ব এই দলবদল বা রাজনৈতিক সমীকরণ বদলকে একেবারেই সহজভাবে নিচ্ছেন না।
অগ্নিমিত্রার অনীহা: পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী তথা বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, “সত্যি বলতে কী, আমি খুব একটা আগ্রহী নই। কে ঢুকছে, কে বেরোচ্ছে, কে যাচ্ছে, কে বৈঠক করছে—এসব নিয়ে ভাবার বা দেখার মতো সময় আমাদের সত্যি নেই।” কে নতুন দল তৈরি করছে বা লোগো ডিজাইন করছে, সেসবে তিনি যে সম্পূর্ণ উদাসীন, তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট।
দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ: পঞ্চায়েতমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ আরও এক ধাপ এগিয়ে এই বৈঠকগুলিকে কটাক্ষ করে বলেছেন, “যার ভূত নেই, তার আবার ভবিষ্যৎ কী? এই সব বৈঠক-মিটিং রাজনীতি চলতেই থাকে। রেজাল্ট দেখুন কী হয়। এগুলো রোজ পাল্টাবে।”
হঠাৎ শত্রু থেকে মিত্র: রাজনীতির নতুন সমীকরণ
গত লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনে যারা একে অপরের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শত্রু ছিলেন, আজ তাঁরাই হঠাৎ বন্ধু হয়ে বৈঠক করছেন এবং একে অপরের প্রশংসা করছেন। রাজনীতিতে সবই সম্ভব, এই প্রবচনকে সত্য প্রমাণ করে তৃণমূলের একাংশের হঠাৎ করে এই অতি-সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু বিধানসভা ভোটের ঠিক পরেই তৃণমূল সাংসদদের এই দলবদল বা বিজেপি নেতাদের সান্নিধ্য পাওয়ার চেষ্টা বাংলার বিজেপির একাংশ যে ভালো চোখে দেখছেন না, তা স্পষ্ট।
দিল্লিতে এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকগুলি যতই সাড়া ফেলুক না কেন, রাজ্য বিজেপির আদি ও শীর্ষ নেতৃত্বের এই অনীহা এবং কটাক্ষ ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে নতুন কোনো দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়!