PF এবং পেনশনের নিয়মে বিরাট বদল! ১৫ হাজার থেকে বেড়ে কত হচ্ছে বেতনের সীমা?

কর্মচারী ভবিষ্য নিধি সংগঠন (EPFO)-এর নিয়মে আসতে চলেছে এক বিরাট পরিবর্তন, যা সরাসরি দেশের লক্ষ লক্ষ চাকরিজীবী মানুষের বেতন এবং পেনশনকে প্রভাবিত করবে। বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, সংগঠিত খাতের যে সমস্ত কর্মচারীদের বেসিক বেতন ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত, তাঁরাও এবার পেনশন সুবিধার আওতায় আসতে চলেছেন। দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর পর EPFO-এর বাধ্যতামূলক বেতন বা ওয়েজ সিলিং (Wage Ceiling) ১৫,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫,০০০ টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই সীমা পরিবর্তন করা হয়েছিল। অর্থ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড (EPF) এবং এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিম (EPS)-এর পরিধি আরও বাড়িয়ে বৃহত্তর সংখ্যক বেতনভোগী কর্মচারীকে এর অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যেই এই নতুন পদক্ষেপ করা হয়েছে। এই নিয়মটি ২০ বা তার বেশি কর্মচারী রয়েছে এমন সমস্ত রেজিস্ট্রেড কোম্পানির ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে প্রযোজ্য হবে।
বাধ্যতামূলক বেতন সীমা বা ওয়েজ সিলিং আসলে কী?
বাধ্যতামূলক বেতন সীমা হলো সেই সর্বোচ্চ বেসিক বেতন (Basic Salary + DA), যার ওপর ভিত্তি করে প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF) এবং পেনশন স্কিমে (EPS) নিয়মমাফিক কন্ট্রিবিউশন দেওয়া বাধ্যতামূলক। এতদিন পর্যন্ত এই সীমা ছিল ১৫,০০০ টাকা। যে সমস্ত কর্মচারীদের বেতন এই সীমার বেশি, তাঁরা চাইলে নির্দিষ্ট নিয়মে এই বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা থেকে বাইরে থাকতে পারেন এবং সেক্ষেত্রে কোম্পানি শুধুমাত্র ১৫,০০০ টাকা পর্যন্তই কন্ট্রিবিউশন দেয়। এবার সেই সীমা বাড়িয়ে ২৫,০০০ টাকা করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
৩০ হাজারের পরিবর্তে ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ
মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রক এবং EPFO এই ওয়েজ সিলিং বা বেতন সীমা বাড়িয়ে ৩০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে অর্থ মন্ত্রকের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত তা কমিয়ে প্রতি মাসে ২৫,০০০ টাকা নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন এই প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে।
কোম্পানি ও সরকারের ওপর বাড়বে আর্থিক চাপ
এই নতুন নিয়ম কার্যকর হলে একদিকে যেমন সাধারণ কর্মচারীরা উপকৃত হবেন, তেমনই অন্যদিকে কোম্পানি এবং সরকার উভয়ের ওপরই আর্থিক বোঝা কিছুটা বাড়তে পারে।
কোম্পানির খরচ বৃদ্ধি: বেতনসীমা বৃদ্ধির কারণে কোম্পানিগুলোকে এখন থেকে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি সংখ্যক কর্মচারীর জন্য পিএফ এবং পেনশনে নিয়মমাফিক ১২ শতাংশ হারে অবদান রাখতে হবে, যা তাদের এমপ্লয়ি কস্ট বা বেতন বাবদ খরচ বাড়িয়ে দেবে।
সরকারের ভূমিকা: পেনশন ফান্ডে সরকারের কন্ট্রিবিউশনও এর ফলে বৃদ্ধি পাবে, কারণ সরকারও কর্মচারীদের নির্দিষ্ট হারে পেনশন সহায়তা প্রদান করে থাকে। পাশাপাশি, প্রভিডেন্ট ফান্ডের ওপর জমানো টাকার সুদের হিসাবের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়বে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ই3PF ও পেনশনের এই নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আসায় দেশের সংগঠিত ক্ষেত্রের চাকুরিজীবী মহলে এখন থেকেই ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই এই নিয়ম আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।