৭ বছরের পুরনো রাম আসলে ভুয়ো? জনপ্রিয় মদ প্রস্তুতকারকদের বিরুদ্ধে বড় আইনি পদক্ষেপ কেন্দ্রের!

জনপ্রিয় রামের ব্র্যান্ড ‘ওল্ড মঙ্ক’ (Old Monk)-এর কিছু নির্দিষ্ট ভ্যারিয়েন্টসহ একাধিক অ্যালকোহল প্রস্তুতকারক সংস্থার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করল ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI)। মদের সুরক্ষা ও মান নিয়ন্ত্রণের নিয়ম ভাঙার অভিযোগে ইতিমধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে স্পষ্ট জানাল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের (MoHFW) তরফে জানানো হয়েছে, কৃত্রিম উপায়ে রাম বা হুইস্কির গন্ধ ও স্বাদ তৈরি করা হচ্ছিল এবং বোতলের গায়ে মদের বয়স সংক্রান্ত ভুল তথ্য দিচ্ছিল এই সংস্থাগুলি।
কেন এই কড়া পদক্ষেপ ফুড রেগুলেটরের?
এফএসএসএআই-এর নিয়ম অনুযায়ী, অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়ের নিজস্ব স্বাদ ও গন্ধ স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হওয়ার কথা। মদ তৈরির প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এই বৈশিষ্ট্য আসার কথা—যেমন গুড় থেকে রামের নিজস্ব স্বাদ এবং মল্ট ও এজিং প্রক্রিয়ায় হুইস্কির বৈশিষ্ট্য তৈরি হয়।
কিন্তু তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে:
কৃত্রিম ফ্লেভারের কারচুপি: কিছু সংস্থা এক্সট্রা নিউট্রাল অ্যালকোহলের মতো উপাদান ব্যবহার করছিল, যার নিজস্ব কোনও নির্দিষ্ট স্বাদ বা গন্ধ থাকে না। এরপর সেই নিরপেক্ষ অ্যালকোহলের সঙ্গে কৃত্রিম ফ্লেভার মিশিয়ে সেগুলিকে আসল রাম বা হুইস্কি হিসেবে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছিল।
ভুল লেবেলিং: মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই ধরণের পণ্যগুলিকে সরাসরি রাম বা হুইস্কি না বলে ‘রাম-ফ্লেভারড স্পিরিট’ বা ‘হুইস্কি-ফ্লেভারড স্পিরিট’ হিসেবে লেবেল করা উচিত ছিল। ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস রেগুলেশনস, ২০২০ অনুযায়ী প্যাকেটের গায়ে পণ্যের আসল চরিত্র স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় কৃত্রিম ফ্লেভার ধরা পড়ায় সেগুলিকে ‘নিম্নমানের’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
‘৭ বছরের পুরনো’ দাবিতেও বড় গরমিল!
শুধু ফ্লেভারের কারচুপিই নয়, ওল্ড মঙ্কের একটি জনপ্রিয় ভ্যারিয়েন্টে লেখা হত ‘৭ বছরের পুরনো ব্লেন্ড’। এই বয়সের দাবি নিয়েও তীব্র আপত্তি তুলেছে এফএসএসএআই।
নিয়ম অনুযায়ী, ব্লেন্ডে ব্যবহার হওয়া সবচেয়ে কম বয়সি স্পিরিটের ওপর ভিত্তি করেই মদের বয়স নির্ধারণ করতে হয়। কিন্তু তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে, ওই নির্দিষ্ট পণ্যে মূল উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল সম্পূর্ণ নতুন স্পিরিট। অথচ ব্লেন্ডের মধ্যে ৫ শতাংশেরও কম ছিল ম্যাচিওর্ড বা পুরনো রাম!
এফএসএসএআই-এর কঠোর নির্দেশিকা
ভোক্তাদের সুরক্ষা ও বাণিজ্যে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ফুড রেগুলেটর একাধিক কড়া নির্দেশ দিয়েছে:
বর্তমান স্টক বিক্রির ক্ষেত্রে সংস্থার প্যাকেটের সামনের অংশে পণ্যের আসল চরিত্র স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
ভবিষ্যতে উৎপাদনের ক্ষেত্রে কোনওভাবেই কৃত্রিম রাম-হুইস্কির ফ্লেভার মেশানো চলবে না।