শতবর্ষ পূর্তিতে আমেরিকা ও কানাডা সফরে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত! থাকবেন একাধিক মেগা কর্মসূচি

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে একটি ঐতিহাসিক সফরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা ভ্রমণে যাচ্ছেন সংঘের সরসঙ্ঘচালক ডঃ মোহন ভাগবত। আগামী ২৯শে আগস্ট তিনি নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত ম্যানহাটনে আয়োজিত ‘একত্ব উদযাপন’ অনুষ্ঠানে মূল বক্তা হিসেবে ভাষণ দেবেন। শতবর্ষের এই বিশেষ সন্ধিক্ষণে আরএসএস দেশের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে ‘জেন-জি’ (Gen-Z) প্রজন্মের কাছে নিজেদের আদর্শ ও প্রসার আরও বাড়াতে বেশ কিছু নতুন এবং যুগোপযোগী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এছাড়াও বিদেশ বিভূঁইয়ে বসবাসকারী প্রবাসী ভারতীয় তরুণ ও বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গেও তাঁর মতবিনিময়ের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে।
বিদেশ সফর ও সূচি
আমেরিকায় অবস্থানকালে ডঃ মোহন ভাগবত ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এই সমস্ত অনুষ্ঠানে তিনি বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব, সামাজিক সম্প্রীতি এবং ভারতীয় সংস্কৃতির ঐক্যের মতো বিষয়গুলিতে সংঘের ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। আমেরিকা সফর শেষ করে তিনি প্রথমবারের মতো কানাডা সফরে যাবেন। পাশাপাশি তাঁর যুক্তরাজ্য (ব্রিটেন) সফরেরও প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শতবর্ষে তাঁর এই বিদেশ সফর এবং এফসিআরএ (FCRA) আইনের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ভারতীয় রাজনৈতিক মহলে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এফসিআরএ (FCRA) আইন ও রাজনৈতিক বিতর্ক
কিছুদিন আগে কর্ণাটকের মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে একটি সরকারি চিঠি লিখে প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, দেশজুড়ে হাজার হাজার শাখা এবং বিশাল প্রভাব থাকা সত্ত্বেও আরএসএস-এর কেন কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি নিবন্ধন নেই এবং তাদের চালিকাশক্তির আর্থিক উৎস বা ফান্ডিং কোথায়?
যদিও এই সমস্ত প্রশ্ন ও সমালোচনা সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়ে মোহন ভাগবত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, আরএসএস সরকারের কাছ থেকে কখনো কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা বা ফান্ড পায় না। তাই তাদের আলাদা করে কোনো বিশেষ নিবন্ধনের প্রয়োজনও নেই। তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন যে, সংঘের সমস্ত কাজকর্ম সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে জনসমক্ষে পরিচালিত হয়।
এফসিআরএ (FCRA) আইন আসলে কী?
‘ফরেন কান্ট্রিবিউশন (রেগুলেশন) অ্যাক্ট’ বা বৈদেশিক অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) আইন হলো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় আইন, যা মূলত বিদেশ থেকে আসা তহবিল, আর্থিক অনুদান বা বিভিন্ন পণ্যের প্রবাহ এবং তার সঠিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে।
মূল উদ্দেশ্য: এই আইনের প্রধান লক্ষ্য হলো নিশ্চিত করা যে কোনো বিদেশি তহবিল যেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা, অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কোনো ক্ষতিকর কাজে ব্যবহৃত না হয়।
নিয়ন্ত্রণ: ভারতের কোন ব্যক্তি, সংস্থা বা এনজিও (NGO) বিদেশি অনুদান গ্রহণ করতে পারবে এবং তা নির্দিষ্ট কাজেই খরচ হচ্ছে কি না, তা এটি কড়াভাবে যাচাই করে।
শংসাপত্র: এই আইন অনুযায়ী সংস্থাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে একটি বাধ্যতামূলক এফসিআরএ (FCRA) শংসাপত্র বা নিবন্ধন নিতে হয়, যা সাধারণত পাঁচ বছরের জন্য বৈধ থাকে।
বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকার এনজিওগুলির বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণের জন্য এই এফসিআরএ আইন সংশোধন করার উদ্যোগ নিয়েছে। যদিও সরকারের এই প্রস্তাবিত বিলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন এনজিও, কংগ্রেস সহ একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং বামপন্থী ও ধর্মীয় সংগঠনগুলি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।