রেপো রেট নিয়ে বিরাট ঘোষণা RBI-এর! সাধারণ মানুষের EMI কি কমল না বাড়ল?

টানা তিন দিনের বৈঠক শেষে রেপো রেটে (Repo Rate) কোনও পরিবর্তন আনল না রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। বুধবার মুদ্রানীতি কমিটির (MPC) বৈঠক শেষে জানানো হয়েছে, রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশেই বহাল রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সর্বসম্মতিক্রমে ‘নিউট্রাল’ (Neutral) নীতিগত অবস্থান বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।

এক নজরে অন্যান্য সুদের হার
রেপো রেটের পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ হারগুলিও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে:

স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফেসিলিটি (SDF): ৫ শতাংশ

মার্জিনাল স্ট্যান্ডিং ফেসিলিটি (MSF): ৫.৫০ শতাংশ

ব্যাঙ্ক রেট: ৫.৫০ শতাংশ

মুদ্রাস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধি নিয়ে আরবিআইয়ের মূল্যায়ন
রেপো রেট নিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্র জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে অস্থিরতা বেড়েছে, যার প্রভাব মূল্যবৃদ্ধির উপরও পড়ছে। প্রথম ত্রৈমাসিকে মূল্যবৃদ্ধি পূর্বাভাসের তুলনায় সামান্য কম থাকলেও খাদ্য ও জ্বালানির সরবরাহজনিত চাপের কারণে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বাড়বে বলেই মনে করছে আরবিআই।

খুচরো মূল্যবৃদ্ধির পূর্বাভাস: চলতি অর্থবর্ষে খুচরো মূল্যবৃদ্ধির পূর্বাভাস কিছুটা কমিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। আগে যেখানে ৫.১ শতাংশ মূল্যস্ফীতির অনুমান করা হয়েছিল, তা সংশোধন করে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস: দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে কিছুটা বেশি আশাবাদী আরবিআই। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬.৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬.৭ শতাংশ করা হয়েছে।

গভর্নর জানান, প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতীয় অর্থনীতি প্রত্যাশার তুলনায় ভাল ফল করেছে। উৎপাদন শিল্পে কর্পোরেট সংস্থাগুলির প্রাথমিক ফলাফল ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং ব্যক্তিগত ভোগব্যয়ও আপাতত শক্তিশালী রয়েছে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে কেন সতর্ক অবস্থান?
ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আরবিআই। গভর্নর স্পষ্ট জানিয়েছেন যে বিশ্ব বাণিজ্য নীতি এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। মূল্যবৃদ্ধির গতিপ্রকৃতি এবং তার উৎস সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা না পাওয়া পর্যন্ত নীতিগত সুদের হারে কোনও পরিবর্তন করা ঠিক হবে না।

মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলির মধ্যে রয়েছে:

আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা: এল নিনোর প্রভাবে বৃষ্টিপাতের সময় ও বণ্টনে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

জ্বালানির দাম: আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা।

উৎপাদন ব্যয়: খাদ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য উৎপাদন ব্যয়ের বৃদ্ধি।

তবে, খাদ্য ও জ্বালানির সাময়িক চাপ থাকলেও মূল্যবান ধাতু বাদ দিলে মূল বা কোর মূল্যস্ফীতি (Core Inflation) এখনও নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখাই সবচেয়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে আরবিআই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *