স্কুল চত্বরে চাঞ্চল্যকর খুন! স্বামীর নাম করে ডেকে এনে ২৯ বছরের শিক্ষিকাকে কুপিয়ে খুন করল বেকার যুবক

হরিয়ানার ফরিদাবাদ থেকে এক অত্যন্ত নৃশংস ও মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে এসেছে। গত সোমবার সকালে একটি বেসরকারি স্কুলের চত্বরে ঢুকে এক ২৯ বছর বয়সি শিক্ষিকাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই ২১ বছর বয়সি এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।
গত দুই মাস ধরে চলছিল খুনের পরিকল্পনা
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত ওই শিক্ষিকার নাম সন্ধ্যা শর্মা (২৯)। তাঁর একটি সাত বছরের ছেলে ও পাঁচ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। অন্যদিকে অভিযুক্তের নাম অমিত (২১), সে পেশায় বেকার এবং মোষ পুষে ও দুধ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করত।
পুলিশি জেরায় ধৃত অমিত জানিয়েছে যে, গত দু’মাস ধরে সে স্কুল যাওয়ার পথেই শিক্ষিকাকে আক্রমণ করার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু প্রকাশ্যে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে সে তখন সাহস পায়নি। এরপর সে সরাসরি স্কুল চত্বরের ভিতরে গিয়েই ওই শিক্ষিকাকে হত্যার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় এবং এর জন্য একটি বিশেষ ধারালো ছুরিও কিনে আনে।
ঠিক কী ঘটেছিল গত সোমবারের সকালে?
গত সোমবার সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ অভিযুক্ত অমিত সিক্রোনা গ্রামের ওই বেসরকারি স্কুলে প্রবেশ করে। এরপর সে মৃত শিক্ষিকা সন্ধ্যা শর্মাকে তাঁর স্বামীর নাম ধরে ডেকে ক্লাসরুম থেকে বাইরে নিয়ে আসে। সন্ধ্যা স্কুলের বাইরে আসামাত্রই অমিত তাঁর চুলের মুঠি ধরে অত্যন্ত নৃশংসভাবে আক্রমণ চালায়। শিক্ষিকার গলা এবং বুকের অংশে ২৭ বারেরও বেশি ছুরি দিয়ে কোপানো হয়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযুক্তের ক্ষোভ এতটাই বেশি ছিল যে ছুরি দিয়ে কোপানোর সময় ছুরির ফলা বেঁকে যাওয়ার পরেও সে একটানা হামলা চালিয়ে যেতে থাকে। এই পুরো নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য স্কুলের সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। এমনকি হামলার সময় স্কুলের এক কর্মী বাধা দিতে গেলে তাঁকে হাত কেটে ফেলার ও খুনের হুমকি দেয় অভিযুক্ত। ঘটনার মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। আদালত ধৃতকে তিন দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে।
একতরফা ভালোবাসা ও শ্লীলতাহানির পুরানো ক্ষোভ
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে যে অভিযুক্ত অমিতের ওই শিক্ষিকার প্রতি একটি একতরফা ভালোলাগা বা দুর্বলতা ছিল। কিন্তু সন্ধ্যা শর্মা তাতে কখনোই কোনো সাড়া দেননি। উল্টে এর আগে অমিতের বিরুদ্ধে একটি শ্লীলতাহানির অভিযোগও দায়ের করেছিলেন সন্ধ্যা। যদিও সেবার অমিত ক্ষমা চেয়ে নেওয়ায় বিষয়টি সাময়িকভাবে মিটেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সন্ধ্যা যখন তাঁর কর্মক্ষেত্র ও বাসস্থান পরিবর্তন করেন, তখন থেকেই সেই আক্রোশ ও ক্ষোভ অমিতের মনে আরও বেশি করে বাড়তে থাকে এবং সে এই জঘন্য কাণ্ড ঘটায়।
এদিকে নিহত শিক্ষিকার স্বামী ভিকি গুর্জর পুলিশের বিরুদ্ধে চরম নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর ক্ষোভ, শিক্ষিকা আগে শ্লীলতাহানির অভিযোগ জানানোর পরেও পুলিশ যদি সময়মতো কোনো কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নিত, তবে হয়তো আজ তাঁর স্ত্রীকে এভাবে প্রাণ হারাতে হতো না।