বিল্লা নম্বর ৭৮৬ থেকে নবান্নে আমন্ত্রণ! শুভেন্দুর দরবারে গিয়ে কী দাবি জানালেন তৃণমূল ভেঙে আসা ২০ সাংসদ?

তৃণমূলের ২৮ জন লোকসভার সাংসদের মধ্যে ২০ জন বেরিয়ে এসে গঠন করেছেন ‘ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)। মহরৎ পর্বের উৎসব স্তিমিত হওয়ার পর থেকেই তাঁরা অপেক্ষায় ছিলেন দিল্লির হাইকম্যান্ডের সঙ্গে কথা বলার। অবশেষে মঙ্গলবার নয়াদিল্লির হেইলি রোডের বঙ্গভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের ভারপ্রাপ্ত নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মধ্যাহ্নভোজের বৈঠকে মিলিত হন তাঁরা।
“সম্মান নিয়ে রাজনীতি করতে চাই”— শুভেন্দুর সামনে ক্ষোভ পার্থ ভৌমিকের
সূত্রের খবর, এই ২০ জন সাংসদের মনের যাতনার কথা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে গুছিয়ে তুলে ধরেন ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক। থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত পার্থ তাঁর স্বভাবসুলভ নাটকীয় ভঙ্গিতে বলেন, “আমার সাংসদ তহবিলের টাকার মধ্যে প্রায় দেড় কোটি টাকা বীজপুরের জন্য বরাদ্দ করলাম। অথচ সেই বীজপুরের বিধায়ক সমাজমাধ্যমে ও খোলাখুলি আমার সম্পর্কে যা তা বলছেন। তাহলে সম্মানটা রইল কোথায়?” পার্থ আরও যোগ করেন, “রাজনীতি যদি সম্মানের সঙ্গে করতে না পারি তাহলে এভাবে থাকার অর্থ কী? এটা তো শুধুমাত্র একটা পরিচয় হিসেবে থেকে গেল যে আমি সাংসদ—বিল্লা নম্বর ৭৮৬!” অমিতাভ বচ্চনের ‘দিওয়ার’ সিনেমার এই রসিকতার রেশ ধরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশ্ন করেন, “তাহলে উপায়? কী চাইছেন আপনারা?” জবাবে পার্থ স্পষ্ট জানান, তাঁদের প্রধান দাবি হল ‘সম্মান’।
এনডিএ শরিক হিসেবে কী দাবি রাখলেন সাংসদরা?
বৈঠকে পার্থ ভৌমিক প্রস্তাব দেন যে, এনডিএ-র অন্যান্য রাজ্যের শরিকরা যে ধরনের সম্মান পান, তাঁদের ক্ষেত্রেও সেটাই হওয়া উচিত। তিনি প্রস্তাব দেন, বারাসতে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সাংসদ কার্যালয়ের উদ্বোধনে স্থানীয় বিজেপি বিধায়করা এবং ব্যারাকপুরে তাঁর কার্যালয় উদ্বোধনে জেলার বিজেপি নেতা ও অর্জুন সিংয়ের মতো নেতারা উপস্থিত থাকুন। এর মাধ্যমে তৃণমূল স্তরে বার্তা যাবে যে তাঁরা একজোট।
সূত্র মারফত জানা গেছে, প্রস্তাবটি শুনে মুখ্যমন্ত্রী একে ‘ভাল প্রস্তাব’ বলে সাধুবাদ জানান এবং ভূপেন্দ্র যাদবের দিকে তাকিয়ে দলের অন্দরে এ নিয়ে সমর্থনের কথা বলেন। ভূপেন্দ্র যাদবও তাতে সম্মতি জানান।
১৮ বা ১৯ অগস্ট নবান্নে বৈঠক, মিলছে বোনাস সুবিধা
বৈঠকের শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয় যে, আগামী ১৮ বা ১৯ অগস্ট এনসিপিআই-এর এই ২০ জন সাংসদকে নবান্নে বৈঠকে ডাকবেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই বৈঠকে তাঁদের এলাকার বিধায়কদেরও ডাকা হবে, যাতে এলাকায় পরিষ্কার বার্তা চলে যায় যে এঁরা শাসকশিবিরেরই লোক।
পাশাপাশি, এই সাংসদদের জন্য কিছু বোনাস সুবিধার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
বর্ষায় গরিব মানুষকে বিতরণের জন্য এই এনসিপিআই সাংসদরা প্রত্যেকে ৫ হাজার করে ত্রিপল পাবেন।
‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের জন্য প্রত্যেকে ৫ হাজার করে উপভোক্তার নাম সুপারিশ করতে পারবেন।
তবে ক্ষমতার এই নানা সুবিধার চেয়েও এই ২০ জন সাংসদের মূল দাবি একটাই— রাজনীতিতে যথাযথ সম্মান ও মর্যাদাপ্রাপ্তি।