বিয়ের মাস পার না হতেই মর্মান্তিক পরিণতি! রাজস্থানে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় শহিদ ভারতীয় সেনাবাহিনীর তরুণ মেজর!

রাজস্থানের জয়সলমেরে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় শহিদ হয়েছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ২৬ বছর বয়সী মেজর হামজা আরিফ। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আরও দুই সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। সেনা ছাউনিতে ফেরার পথে তাদের বহনকারী টাটা সাফারি গাড়িটি হঠাৎ রাস্তার ওপর চলে আসা একটি উটের সাথে ধাক্কা খায়। সংঘর্ষটি এতটাই তীব্র ছিল যে এসইউভি গাড়িটি চার-পাঁচবার উল্টে যায় এবং প্রায় ১০০ মিটার রাস্তা জুড়ে টেনে হিঁচড়ে চলে যায়। গাড়িটির এমন পরিণতিতে ঘটনাস্থলে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, নিহত মেজর হামজার মাত্র এক মাস আগেই বিয়ে হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে বারোটার দিকে সদর থানার থাইয়াত এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। মেজর হামজা আরিফ তাঁর দুই সহকর্মী লেফটেন্যান্ট আয়ুষ্মান ও অভিনব রাঠোড়কে নিয়ে ডিউটি ​​শেষে সেনা ছাউনিতে ফিরছিলেন। ছাউনির কাছাকাছি পৌঁছানোর মুহূর্তে হঠাৎ অন্ধকারের মধ্যে রাস্তায় একটি উট চলে আসে। চালক ব্রেক কষার বা পরিস্থিতি সামলানোর বিন্দুমাত্র সুযোগ পাননি এবং দ্রুতগামী গাড়িটি সোজা উটটিকে ধাক্কা মারে।

সংঘর্ষের পর ১০০ মিটার দূরে ছিটকে যায় গাড়ি
উটের সাথে তীব্র ধাক্কার পর সেনাবাহিনীর এসইউভিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চার থেকে পাঁচবার ডিগবাজি খেয়ে উল্টে যায় এবং প্রায় ১০০ মিটার রাস্তা ধরে ঘষটে যেতে থাকে। এতে গাড়িটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দা ও আশেপাশের সেনা জওয়ানরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। শুরু হয় উদ্ধারকাজ এবং আহত তিন কর্মকর্তাকে তৎক্ষণাৎ নিকটবর্তী সেনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

বাঁচানো গেল না মেজর হামজাকে
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা ২৬ বছর বয়সী মেজর হামজা আরিফকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা এই তরুণ কর্মকর্তার মাত্র এক মাস আগেই বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে পরিবার ও সেনাবাহিনীর অন্দরে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। অন্যদিকে, অপর দুই আহত কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট আয়ুষ্মান ও লেফটেন্যান্ট অভিনব রাঠোড় বর্তমানে সেনা হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁদের অবস্থাও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

পুলিশ ও মিলিটারি পুলিশের যৌথ তদন্ত শুরু
সদর থানার এএসআই জগদীশ চরণ জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে পরিষ্কার যে রাস্তায় হঠাৎ উট চলে আসার ফলেই এই বিপত্তি ঘটেছে। তবে দুর্ঘটনার পেছনের অন্য কোনো কারণ বা গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি এবং তা এড়ানো সম্ভব ছিল কি না, তা জানতে স্থানীয় পুলিশ এবং মিলিটারি পুলিশ (CMP) যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *