মাত্র দু’দিনের ছুটিতে ঘুরে আসুন দক্ষিণবঙ্গের ‘দার্জিলিং’! কোথায় রয়েছে বাঁকুড়ার এই অফবিট ও অপূর্ব সুন্দর জায়গা?

দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বর্তমানে বৃষ্টির রিমঝিম ছন্দে মেতে উঠেছে প্রকৃতি। আর এমন মনোরম আবহাওয়ায় পাহাড়ের কোলে হারিয়ে যেতে কার না মন চায় বলুন তো? কিন্তু মুশকিল হলো, হাতে হয়তো লম্বা ছুটি নেই। তাই যাঁরা উইকেন্ড বা মাত্র দু’দিনের ছোট ছুটিতে কোথাও ঘুরে আসার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য আজ এক দারুণ এবং কম চেনা জায়গার সন্ধান রইল। সপ্তাহের শেষে পরিবার, প্রিয়জন কিংবা বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে ঘুরে আসতে পারেন বাঁকুড়ার অত্যন্ত সুন্দর কোড়ো পাহাড়ে। বাঁকুড়ার বুকে লুকিয়ে থাকা এক মনোরম অফবিট স্পট হিসেবেও বেশ পরিচিত এই কোড়ো পাহাড়, যা স্থানীয় মানুষের কাছে ‘তপোবন’ নামেও সমাদৃত। বিশেষ করে বর্ষার মরশুমে চারপাশের সবুজে ঢাকা কোড়ো পাহাড় যেন এক অন্য রূপ ধারণ করে এবং আরও বেশি সতেজ হয়ে ওঠে।

দু’দিনেই ঘুরে আসুন দক্ষিণবঙ্গের ‘দার্জিলিং’:
বাঁকুড়ার চেনা জঙ্গলঘেরা মেঠো পথ ধরে খুব সহজেই এই পাহাড়ে পৌঁছে যাওয়া যায়। পাহাড়ের ঠিক ওপরে রয়েছে দেবী অষ্টভূজা পার্বতীর একটি প্রাচীন মন্দির। এই মনোরম স্থানে মূলত স্থানীয়দের আনাগোনাই সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায়। কোড়ো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়ালে চারপাশের যে দৃশ্য চোখে পড়ে, সেখান থেকেই বাঁকুড়ার এক সম্পূর্ণ অন্যরূপ অবলোকন করা সম্ভব। প্রকৃতির ঠিক মাঝে নিরিবিলিতে কিছু সময় কাটানোর এবং বর্ষার আসল সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য এটি অন্যতম সেরা একটি জায়গা। যদিও অনেকে শীতকালে এখানে বনভোজন বা পিকনিকের মেজাজেও আসেন, তবে বর্ষার দিনে এই পাহাড়ের আসল সৌন্দর্য ও স্নিগ্ধতা এক অন্য মাত্রা পায়। এছাড়া, আপনি এখানে এলে মাত্র ৪৫ মিনিটের দূরত্বেই ঘুরে দেখতে পারেন বিখ্যাত শুশুনিয়া পাহাড়ও। মূলত যারা শুশুনিয়া বেড়াতে আসেন, তাঁদের অনেকেই এই কোড়ো পাহাড় ঘুরে তবেই ফেরেন।

কীভাবে পৌঁছাবেন এবং কোথায় থাকবেন?
আপনি যদি ট্রেনে যাতায়াত করতে চান, তবে শিয়ালদহ অথবা হাওড়া স্টেশন থেকে বাঁকুড়াগামী যেকোনো ট্রেনে চেপে সোজা বাঁকুড়া নেমে পড়তে পারবেন। এরপর বাঁকুড়া শহর থেকে মাত্র ৩০ মিনিট সময় ব্যয় করেই পৌঁছে যাওয়া যায় মহিমানন্দ তপোবন আশ্রম ও কোড়ো পাহাড়ে। তবে আপনি যদি ট্রেন বাদে সড়কপথে বা নিজস্ব গাড়িতে আসতে চান, তবে কলকাতা থেকে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরেও খুব সহজেই এখানে পৌঁছে যেতে পারেন।

এখানে ভ্রমণের পাশাপাশি রাত কাটানোর জন্য বাঁকুড়া শহর কিংবা সংলগ্ন শুশুনিয়া অঞ্চলেই থাকার দারুণ ব্যবস্থা রয়েছে। পর্যটকদের থাকার সুবিধার জন্য সেখানে বেশ কিছু ভালো হোটেল ও লজ পাওয়া যায়। তবে ভ্রমণের মরশুমে কোনো রকম ঝামেলা এড়াতে আসার আগেই আপনার পছন্দের হোটেলটি অনলাইনে বুক করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে, তাহলে থাকার বন্দোবস্ত নিয়ে আপনাকে আর বাড়তি চিন্তায় পড়তে হবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *